বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবির জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ‘নতুন ভূখণ্ড’ বলল ইরান বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল ট্রাম্প বাড়াবাড়ি করলে রক্ষা পাবে না ইউরোপও, হামলার নতুন ছক ইরানের বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় ব্যালট নিয়ে সংসদে যাবে ইসি টানা তৃতীয় বছরেও ত্রাণকর্মীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থান গাজা: জাতিসংঘ তৃতীয় সন্তানের জন্যও ৩৬৫ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেবে বিজয়ের সরকার কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড : বাংলাদেশিদের জন্য হেল্পলাইন চালু সুতারের ঘূর্ণিতে ৬০০তম টেস্ট রাঙালো ভারত দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় রেকর্ড আবেদন ২০২৬ সালের প্রথম ৪ মাসে ইরানের ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের তেল রাজস্ব

দিনে খাবারে উড়ে মাছি, রাতে বিছানায়‌ মশা ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেহাল দশা!

জালাল আহমদ ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩৬২ Time View
জালাল আহমদ ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : দিনে ক্যান্টিনের খাবারে উড়ে  মাছি, রাতে বিছানায় কামড় দেয় মশা, এ যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিত্য সঙ্গী। মশা এবং মাছির জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।মশা এবং মাছি নিধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন তোরজোর নেই।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ টি আবাসিক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি আবাসিক  হলের ক্যান্টিনের খাবারে দিনে মাছি উড়তে থাকে। খাবার খেতে বসলেই মাছির উড়াউড়ি চোখে পড়ে। কখনো কখনো খাবারে প্লেটে মাছি উড়ে এসে জুড়ে বসে। হলের ক্যান্টিনে পচনশীল পণ্য এবং উচ্ছিষ্ট খাবার পড়ে থাকার কারণে এখানে মাছির উৎপাত বেড়ে গেছে ‌। আবাসিক হল ছাড়াও ক্যাম্পাস পরিস্কার -পরিচ্ছন্ন না থাকায় ক্যাফেটেরিয়া এবং অন্যান্য খাবারের দোকানে মাছি উড়ে দেখা যায়।মাছি নিধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই। 
দিনে মাছির উৎপাতের চেয়ে  রাতে আবাসিক হলের বিছানায় মশার কামড়ের জ্বালা অনেক বেশি। সারাদিন ক্লাস,অ্যাসাইনমেন্ট , প্রেজেন্টেশন এবং পরীক্ষা শেষে  রাতে বিছানায় ঘুমাতে গেলে মশা কামড়ে ঘুম আসে না।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে আধিপত্য বিস্তার করতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের “ম্যানার শিখা”র নামে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে প্রত্যেক হলে প্রতি  সপ্তাহে ৫/৬ দিন গেস্ট রুম করানো হয়।এসব গেস্ট রুমেও মশার আক্রমণ বেড়ে গেছে।গেস্ট রুম শেষে হলের সিটে থাকতে গেলে মশার কামড়ে ঘুমানো যায় না বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। হলে নামকাওয়াস্তে মাঝে মাঝে নিম্ন মানের কিছু মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করানো হয়।এসব ওষুধ প্রয়োগে মশার লার্ভা পর্যন্ত মরে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হল পরিদর্শন করে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল গুলোতে ছাত্রলীগের পদধারী নেতারা “সিঙ্গেল রুম”  নিয়ে উপরের তলায় থাকে।ফলে এসব রুমে মশার আক্রমণ অপেক্ষাকৃত কম। কোন কোন ছাত্রলীগের নেতাদের রুম এয়ার কন্ডিশনযুক্ত তথা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।এসব বিষয়ে হল প্রশাসন নিশ্চুপ।অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলের নিচতলায় কিংবা এক্সটেনশন ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকে। আবাসিক হলের এসব এক্সটেনশন ভবন  এবং দ্বিতীয় তলায় মশার আক্রমণ সবচেয়ে বেশি। তবে শিক্ষার্থীরা  যত উপরে থাকে, মশার উপদ্রব তত কম।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরও জানান,বিদ্যুৎ চলে গেলে মশার আক্রমণ বেড়ে যায়। ইদানিং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মশার আক্রমণ বেড়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ আবাসিক হলের রিড়িং রুম (পাঠ কক্ষ) নিচতলায় কিংবা দ্বিতীয় তলায়। তাই এসব রিডিং রুমেও  মশার আক্রমণের শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলের মতো কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা শিববাড়িতে মশার উপদ্রব বেড়েছে।সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দেখা মিলে না বলে অভিযোগ করেছেন এসব এলাকায় বসবাসকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের এক ছাত্রী জানান, ” রোকেয়া হলের ৭ মার্চ ভবনে মশার উপদ্রব কম। কিন্তু শাপলা ভবন আর এক্সটেনশন অপরাজিতায় মশার উপদ্রব  একটু বেশি।।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক জানান, “সারাদেশে এডিস মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়েও ইদানীং মশার উৎপাত বেড়েছে। এই সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অনেকেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মশা নিধনের উদ্যোগ কিছুটা আছে। কিন্তু তা আরও অধিক কার্যকরী করা দরকার ।ডেঙ্গু আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়ে তিনি, “ডেঙ্গু আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের টেস্ট এবং সামগ্রিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে”।
এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ম্যানেজার ফাতেমা বিনতে মুস্তফা জানান, প্রতি ১৫ দিন পর পর আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার সাথে যোগাযোগ করে আপডেট নিই। ক্যাম্পাসে এবং হলে একদিন পর পর মশা নিধনের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। প্রত্যেক হলের নিজস্ব ফকার মেশিন আছে এবং প্রতিটি আবাসিক এলাকায় উপাচার্য স্যার একটা করে ফকার মেশিন উপহার দিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে কেউ ফকার মেশিন চালানোর জন্য আমাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে না। ফলে মশা কামড়ে অতিষ্ঠ জনজীবনে বিপর্যস্ত হয়ে গেছি আমরা।এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন,  “মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সকল কে সচেতন থাকতে হবে। মশার প্রজনন স্থান চিহ্নিত করে ধ্বংস করে দিতে হবে।পরিবেশ এবং প্রকৃত কে সংরক্ষণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি”।

কিউএনবি/অনিমা/১৩.১১.২০২২/দুপুর ২:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit