বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

প্রসবের পর থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ? কী প্রতিকার

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২
  • ১০৮ Time View

লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ একটি জটিল সমস্যা। অন্তঃসত্ত্বা কিংবা প্রসূতিদের এই রোগ দেখা দিলে দুর্ভোগ দ্বিগুণ হয়।
প্রসূতিদের সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শারীরবৃত্তীয় ব্যাপক পরিবর্তন হয়, যার ফলে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গে ইমিউন কার্যকারিতায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়ে থাকে। সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পরে থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ এরূপ একটি সমস্যা।

প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ খুব বেশি হয় তা নয়, কিন্তু যখন হয় তখন শনাক্ত করা অনেক ক্ষেত্রেই জটিল হতে পারে। এ সমস্যাটি হওয়ার জন্য মায়ের আগে থেকেই থায়রয়েড সমস্যা থাকতে হবে তা নয়।

গর্ভকালের আগে বা গর্ভকালে যাদের থায়রয়েড ফাংশন ভালো ছিল, তারাও এতে আক্রান্ত হতে পারে। এ সমস্যায় আক্রান্ত অধিকাংশ নারীর থায়রয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে; তবে কারও কারও এ সমস্যা আজীবন থেকে যায়।

প্রসূতিদের থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহের লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম। 

লক্ষণ

লক্ষণগুলো দু’পর্যায়ের হতে পারে; প্রথম পর্যায়ে থায়রয়েড হরমোন অতিরিক্ত হলে যে লক্ষণগুলো দেখা যায়, অনেকটা সে রকম লক্ষণই দেখা দেয়। যেমন- বুক ধড়ফড় করা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হার্ট ফেইলিউর, এনজাইনা বা বুক ব্যথা, ঘন ঘন পায়খানা হওয়া, খাওয়ার অরুচি, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, অবসন্নতা বা নার্ভাসনেস, উত্তেজনা, আবেগপ্রবণতা, সাইকোসিস বা মানসিক বিষাদগ্রস্ততা; হাত-পা কাঁপা, নিদ্রাহীনতা, ঘাম বেড়ে যাওয়া, চুলকানি, হাতের তালু লাল হওয়া, গরম সহ্য করতে না পারা।

এ লক্ষণগুলো প্রসবের পরের এক থেকে চার মাসের মধ্যেই সাধারণত দেখা দেয়। পরবর্তী পর্যায়ের লক্ষণগুলো হল শারীরিক দুর্বলতা, শীত সহ্য করতে না পারা, ত্বক শুকনো লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অবসন্নতা ও ওজন বৃদ্ধি পাওয়া। এ লক্ষণগুলো পরবর্তী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শুরু হয়ে ১২ মাস পর্যন্ত থাকতে পারে।

কারণ

প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহের সঠিক কারণটি এখনও পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি। তবে এদের প্রায় সবারই রক্তে এন্টিথায়রয়েড এন্টিবডি থাকে। যা এ ঘটনাটি ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন

যাদের অন্য কোনো অটোইমিউন রোগ আছে, তাদের প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এ তালিকায় টাইপ ১ ডায়াবেটিস, প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহের আগের ইতিহাস পরিবারের আর কারও থায়রয়েড গ্রন্থির রোগের ইতিহাস ইত্যাদি। প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতার সঙ্গে এর একটি সংযোগ থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা

অনেক সময়ই রোগ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়ে যায়। কেননা এ লক্ষণ নিয়ে রোগী হয়তো হরমোন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে বিলম্ব করে ফেলেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে থায়রয়েড ও হরমোনের পরীক্ষা (TSH, FT4) গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে এন্টিথায়রয়েড এন্টিবডি, থায়রয়েড গ্রন্থির আল্ট্রাসনোগ্রাম দরকার হতে পারে। খুব কমক্ষেত্রে থায়রয়েড গ্রন্থির রেডিও আয়োডিন আপটেক টেস্ট দরকার হতে পারে।

জটিলতা

প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহের অধিকাংশ রোগীই ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিকতা না এসে বরং হাইপোথায়রয়েডিজম হয়, যা আজীবন থেকে যাই।

প্রতিরোধ

প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ সব সময় প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে তা নয়। তবে যাদের ঝুঁকি বেশি তাদের সতর্ক হয়ে যেতে হবে। উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলেই দ্রুত হরমোন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।
 

কিউএনবি/অনিমা/১০.১১.২০২২/সকাল ১১.৪৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit