লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : বাংলাদেশের খাদ্যতালিকায় ডিম অন্যতম জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর খাবার। সহজলভ্য, তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং রান্না সহজ হওয়ায় অনেকেরই প্রতিদিনের খাবারে থাকে ডিম। তবে নিয়মিত ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে।
হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানিয়েছেন, টানা দুই সপ্তাহ প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ডিম উচ্চমানের ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’-এর অন্যতম উৎস। একটি ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন, খনিজ, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। তাঁর মতে, একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২ দশমিক ৫ গ্রাম এবং সাদা অংশে প্রায় ৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে।
চোখের সুরক্ষায় সহায়ক
ডা. শেঠির মতে, ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এসব উপাদান বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং ছানিপড়া (ক্যাটারাক্ট) হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
মস্তিষ্ক ও লিভারের জন্য উপকারী
ডিমে থাকা কোলিন স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
কোলেস্টেরল নিয়ে প্রচলিত ধারণা
ডিম নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা হলো এটি কোলেস্টেরল বাড়ায়। তবে ডা. শেঠির দাবি, অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ডিম শরীরের উপকারী বা এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া সকালের নাশতায় ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে যাদের হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাওয়া উচিত।
যারা ডিম খান না, তাদের জন্য টোফু ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে, যা শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।
কিউএনবি/অনিমা/০৪ অগাস্ট ২০২৬,/দুপুর ২:১০