শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

যুদ্ধের পর নারীরাই বেশি সহিংসতার শিকার হয় : স্পিকার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৩৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ  আহ্বান জানান স্পিকার।

বিএনপিএসের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে সভায় স্পিকার বলেন, ‘যুদ্ধ বা যুদ্ধপরবর্তীকালে নারী ও মেয়েরা সবচাইতে বেশি সহিংসতার শিকার হয়। তাই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত ১৩২৫ রেগুলেশনটি (প্রস্তাব) একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কেননা এতে প্রথমবারের মতো শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জেন্ডার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে নেওয়া জাতীয় পরিকল্পনা আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সাফল্য বয়ে এনেছে। ’

তিনি আরো বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগে নারীর ওপর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে নারীর সার্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ওই জাতীয় পরিকল্পনাটির যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি।

শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নারীর সহজাত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে ড. শিরীন শারমিন বলেন, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীর এই বৈশিষ্ট্যকে আরো পরিশীলিত করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বড় ধরনের সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় ইউএন উইমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং বলেন, নারীর শান্তি ও নিরাপত্তায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাবটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পথিকৃতের ভূমিকা রেখেছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনাটি স্থানীয়করণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

জাতীয় পরিকল্পনার সময়সীমা যেহেতু তিন বছর বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাই এ ক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধির বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের রাজনৈতিক কাউন্সেলর ব্রাডলি কোটস বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সিভিল সোসাইটির পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা রয়েছে। জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল (ইউএন উইং) তৌফিক ইসলাম শাতিল বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে জাতীয় পরিকল্পনাটির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত আরো তিন বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সমাজের সকল স্তরের নারীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যবৃন্দ নিজ নিজ কর্ম এলাকায় ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করছি। ’

অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার বলেন, অস্ট্রেলিয়া সরকার নারীর শান্তি ও নিরাপত্তায় জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করে প্রভূত সাফল্য লাভ করেছে। জাতীয় পরিকল্পনাটি স্থানীয়করণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুরুষ ও ছেলেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সভায় আরো বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, আরমা দত্ত, সেলিমা আহমেদ, আবিদা আঞ্জুম মিতা, শবনম জাহান, সৈয়দা রুবিনা আক্তার, কাজী কানিজ সুলতানাসহ আরো অনেকে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৯ নভেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:১৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit