শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাবে ডিএমপি সুখরঞ্জন বালী অপহরণে সরাসরি জড়িত ছিলেন এএসপি ফজলুর মাটিরাঙ্গায় বর্ণিল আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ এর শুভ উদ্বোধন। গুড়গুড়ি উত্তরপাড়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষরা ৬০টি আম গাছ কেটে ফেলেন ॥ আশুলিয়ায় মোটর চালক দলের মতবিনিময় সভা  দেবীগঞ্জে ৩ বছরেও শেষ হয়নি সড়ক নির্মাণকাজ, ঠিকাদারের অবহেলার অভিযোগে মানববন্ধন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়, জানাজা শনিবার বিশ্বকাপে রোনালদোর ১১ গোলের ৪টিই পেনাল্টি থেকে এ জাতিকে কখনো বিভাজন করা সম্ভব নয় : রিজভী জুলাই শহীদদের স্মরণসভা শনিবার, উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

উৎসব আনন্দ শিশু ধ্রোব-নির্জনের ‘মিছেমিছি’ মন্ডপ 

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৫৯ Time View
বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : আলোকসজ্জা করার সামর্থ নেই তো কি হয়েছে! বাড়ির নষ্ট মোবাইল ফোনের আলো তো আছে। কাজে লাগানো হয়েছে পুরোনো চার্জার লাইট। ঢাকি নেই- তাতেই বা কি যায় আসে! কাগজ দিয়ে বানানো ঢাকিওয়ালা তো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে। কোনো কিছুর কমতি রাখা হয়নি মন্ডপে, যেখানে আসন পেতেছে দেবী মা দুর্গা। 

শিশু ধ্রুব বনিক ও নির্জন বনিকের পৃথক পূজার মন্ডপ দু’টি কাগজের তৈরি। বেশ শৈল্পিক ছাপ মন্ডপ দু’টোতে। অন্য আর দশটি পূজার মতোই অসুর পরাস্তের দুর্গার পুরো দৃশ্যটাই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে তারা। ‘মিছেমিছির’ এ দুটি মন্ডপে নিজেদের মতো করে পূজা অর্চনাও করছে নিয়মিত। বাড়ির বড় সদস্যরাও বিষয়টি বেশ উপভোগ করছে।

ধ্রুব ও নির্জন সম্পর্কে কাকাতো, জেঠাতো ভাই। ধ্রæব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে ও নির্জন একই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আখাউড়া পৌর এলাকার সড়ক বাজারের বাড়ির নিজ নিজ ঘরে তাদের এ মন্ডপ শোভা পাচ্ছে। রবিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধ্রুব ছোট বেলা থেকেই কাগজ দিয়ে বিভিন্ন কিছু বানাতো। এরই আলোকে সে বিভিন্ন প্রতিমা বানানো শুরু করে।

এবারও সে একই কাজ করে বানিয়ে ফেলে দুর্গাপূজার মন্ডপ। তার কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে ছোট ভাই নির্জনও এবার মন্ডপ বানিয়েছে। মন্ডপে পূজা অর্চনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও রাখতে দেখা যায়। ধ্রুব জানায়, অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে মন্ডপটা বানিয়েছি সে। সব কিছু করা হয়েছে কাগজ দিয়ে। কাগজ কাটার পর এতে রং করা হয়েছে। পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে মন্ডপটা বানানো হয়েছে। নির্জন জানায়, বড় ভাই ধ্রব’র কাছ থেকেই উৎসাহ পাওয়া। সাত-আটদিন সময় লেগেছে তার মন্ডপটি তৈরি করতে। 

ধ্রুবর কাকা ও নির্জনের বাবা সাংবাদিক জুটন বনিক জানান, কোনো ধরণের প্রশিক্ষণ ছাড়া এই কম বয়সেই তারা হাতের কাজের যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে সেটা অবাক করার মতো। স্বাভাবিক পূজা অর্চনার মতো তারাও দশমী পর্যন্ত নিয়ম পালন করবে। তাদের মন্ডপে ধর্মীয় গানও বাজানো হয়। কোথাও ৯৯ বছর, কোথাও প্রথম পূজা (শনিবারও পাঠানো ছিলো) স্বর্গীয় হরিধন সাহার বাড়িতে দুর্গোৎসবের বয়স ৯৯ বছর। ঘট পূজা দিয়ে শুরু করে এখন বাড়িটিতে প্রতিবছরই প্রতিমায় দুর্গাপূজা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এ পরিবারের সদস্যরা ভারতের ত্রিপুরায় শরনার্থী থাকা অবস্থায় সেখানেও নিয়ম রক্ষার পূজা করেন। 

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এ বছরই প্রথম পূজা হচ্ছে গ্রামটিতে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে ওই গ্রামে দুর্গাপূজা হলেও নানা কারণে ছেদ পড়ে। দু’বছর আগে ওই গ্রামে মন্দিরের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা উদ্ধার হলে এলাকাবাসীর মনে আশার সঞ্চার হয়। সে কারণেই এবার তারা পূজার আয়োজন করেছেন। হারাধান সাহার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে। রুটি গ্রামটি জেলার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নে। ঐতিহ্যগতভাবে পূজা করতে পেরে বেজায় খুশি হারাধন সাহার পবিরারের লোকজন। গ্রামে প্রথমবারের মতো পূজা দেখতে পেয়ে বেশ উৎফুল্ল রুটি গ্রামের হিন্দু ধর্মালম্বী সমাজ।

শঙ্কার মেঘ উড়িয়ে দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবারও শুরু হয়েছে হিন্দুধর্মালম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। জেলার ছয় শতাধিক মন্দিরে শনিবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। সবেচেয়ে বেশি ১৫১টি মন্ডপে পূজা হচ্ছে নাসিরনগর উপজেলায়। এছাড়া নবীনগরে ১২৯, সদরে ৭৮, বিজয়নগরে ৬৫, সরাইলে ৪৯, কসবায় ৪৯, বাঞ্ছারামপুরে ৪৭, আখাউড়ায় ২২ ও আশুগঞ্জ উপজেলায় ১৪টি মন্ডপে পূজা হচ্ছে। এবার ৪০টির বেশি পূজা বেড়েছে। 

এবারের পুজায় ব্যতিক্রম আয়োজন রয়েছে জেলার আখাউড়া উপজেলার শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে। পূজার নবমীর দিন বিকেলে জীবিত মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হবে মন্দিরটিতে। সোমবার অষ্টমীর দিন সকালে রাধামাধব আখড়া, মোগড়া দশভ‚জা মন্দির ও মনিয়ন্দের রামসুন্দর মন্দিরে আসবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গত বছর দেশের বিভিন্নস্থানে হামলার ঘটনাকে আমলে নিয়ে এ বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দির ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরেই স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। নিয়মিত আনসার সদস্যদের অবস্থানের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে।

 শাহবাজপুর গ্রামের হরিধন সাহার ছেলে বলাই সাহা বলেন, ‘আমার প্রয়াত বাবার বয়স যখন ১৬ বছর তখন থেকেই তিনি আমাদের বাড়িতে ঘটের মাধ্যমে দুর্গাপূজার শুরু করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের পরিবারের সবাই ত্রিপুরায় শরনার্থী শিবিরে থাকা অবস্থায় সেখানেই নিয়ম রক্ষা করা হয়। দেশ স্বাধীনের পর থেকে প্রতিমা দিয়ে পূজার শুরু করা হয়। দিনকে দিন পূজাকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন ও আনন্দ বেড়ে চলছে।’

আখাউড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক দীপক কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমাদের উপজেলার এবার রুটি গ্রাম ও পৌরসভার মসজিদ পাড়া এলাকায় প্রথমবারের মতো পুজা হচ্ছে। এর মধ্যে রুটি গ্রামে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের হস্তক্ষেপে ও পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফার সহযোগিতায় দু’বছর আগে মন্দিরের জায়গা উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই ওই এলাকার হিন্দুধর্মালম্বীরা দুর্গাপূজা করার জন্য চিন্তাভাবনা শুরু করেন। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি সোমেশ রঞ্জন রায় বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এলাকা। পূজাকে কেন্দ্র করে এখানে কোনো সহিংস ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বছরও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’    

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৩ অক্টোবর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৫:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit