বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

সাহাবিদের জীবনে নবীজি (সা.)-এর আনুগত্য

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৫৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ছিলেন নবীজি (সা.)-এর সবচেয়ে অনুগত দল। তারা তাদের জীবনের সর্বত্র মহানবী (সা.)-এর নির্দেশনা মান্য করে চলতেন। নির্দেশ ও নির্দেশনার সামনে তাদের কোনো বক্তব্য থাকত না। যেকোনো সাহাবির জীবনধারা পর্যালোচনা করলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। এখানে নবীজি (সা.)-এর প্রতি সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর আনুগত্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশিষ্ট কয়েকজন সাহাবির বিভিন্ন ঘটনা ও আমল তুলে ধরা হলো।

১. জীবনের তরে পরিত্যাগ : আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ওমর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম! যখন থেকে আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ কথা বলতে শুনেছি, তখন থেকে আমি তাদের নামে কসম করিনি; মনে থাকা অবস্থাতেও না, অন্যের কথা উদ্ধৃত করেও না। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৭৪৪)

২. সামান্য বিষয়ও পরিহার না করা : আবু বকর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যা করতেন আমি তা পরিহার করব না, বরং আমি তা করব। আমি ভয় পাই যদি আমি তাঁর সামান্য কোনো বিষয় পরিহার করি, তবে পথভ্রষ্ট হবো। ’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২৯৭০)

৩. নিজেকে সংশোধন করে নেওয়া : সাঈদ (রহ.) বলেন, ‘ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলতেন, রক্তপণে বংশের লোকদের অংশ আছে। স্ত্রী তার স্বামীর দিয়াতের ওয়ারিস হয় না। দাহহাক ইবনু সুফিয়ান (রা.) তাঁকে বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে লিখিত নির্দেশ পাঠান : আশআম আদ-দিবাবির স্ত্রীকে তার রক্তপণের ওয়ারিশ বানাও। তখন ওমর (রা.) নিজের মত পরিবর্তন করেন। ’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২৯২৭)

৪. অনুসরণেই তৃপ্তি : মুজাহিদ (রহ.) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর এক সফরে সঙ্গে ছিলাম। তিনি একটি স্থান অতিক্রম করার সময় সেখানে পার্শ্বপরিবর্তন করলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি এমন করলেন কেন? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে এমনটি করতে দেখেছি। ’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৪৮৭০)

৫. নবীজি (সা.)-এর আমল ত্যাগ না করা : আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিতভাবে জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পারো না। নবী (সা.)-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। এরপর তিনি চুম্বন করলেন। পরে বললেন, আমাদের রামল করার উদ্দেশ্য কী ছিল? আমরা তো রামল করে মুশরিকদের আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। আল্লাহ এখন তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন। এরপর বললেন, যেহেতু এই (রামল) কাজটি আল্লাহর রাসুল (সা.) করেছেন, তাই তা পরিত্যাগ করা পছন্দ করি না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৬০৫)

৬. আংটি আর কখনো ব্যবহার না করা : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তির হাতে একটি স্বর্ণের আংটি দেখে সেটি খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আগুনের টুকরা সংগ্রহ করে তার হাতে রাখে। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রস্থান করলে লোকটিকে বলা হলো, তোমার আংটি তুলে নাও, এর দ্বারা উপকার লাভ কোরো। সে বলল, না। আল্লাহর শপথ! আমি কখনো ওটা নেব না। রাসুলুল্লাহ (সা.) তো ওটা ফেলে দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৩৬৫)

৭. নির্দেশ পালনে বিলম্ব নয় : আয়েশা (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা প্রাথমিক যুগের মুহাজির নারীদের ওপর অনুগ্রহ করুন, যখন আল্লাহ এই আয়াত ‘তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে’ অবতীর্ণ করলেন, তখন তারা (বিলম্ব না করেই গায়ে থাকা) নিজ চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমণ্ডল ঢাকল। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৭৫৮)

আল্লাহ সবাইকে নবীজি (সা.)-এর যথাযথ অনুসরণ করার তাওফিক দিন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৫:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit