স্পোর্টস ডেস্ক : সাকিব আল হাসান আর বিতর্ক যেন এক মায়ের দুই সন্তান। তাকে বাংলাদেশের প্রাণও বলা হয় আবার বলা হয় তিনি কেবল নিজের জন্য খেলেন।
তবে সমালোচনাকে গায়ে না মেখে সাকিব বরাবরই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন। তবে এবার সেটি পারলেন না।
বিসিবি সভাপতি হুশিয়ারিতে ১০ কোটি টাকার চুক্তি ছাড়লেন দেশসেরা অলরাউন্ডার।
তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেন জুয়াড়ি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিতে জড়িয়ে গেলেন সাকিব?
বাংলাদেশের আইনে যেকোনো ধরনের বাজি, জুয়া নিষিদ্ধ। দেশের আইন যেখানে এমন, সেখানে দেশের একজন শীর্ষ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কীভাবে একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হলেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন সবার।
এদিকে, চুক্তি বাতিল করে ফিরে আসায় পুরষ্কারই পেতে যাচ্ছেন সাকিব। যেখানে ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হবার হুশিয়ারি পেয়েছিলেন সেখানে ফিরেছেন এশিয়া কাপ একাদশে। সঙ্গে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বও পেতে পারেন।
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছেন, তিনি হয়তো এবার টেস্ট অধিনায়ক সাকিবকে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দেবেন।
বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তারাও সাকিবের কাঁধে নেতৃত্বের ভাড় ছাড়ার পক্ষে।
যেমন বেটউইনারকাণ্ডে সাকিবের তেমন দোষই দেখেন না জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট।
সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটার বলেছেন, ‘আমি এ ব্যাপারে সাকিবকে খুব বেশি দোষারোপ করব না।’
এতো বিশাল ছাড় ও পুরষ্কার দিলেও এবার বেশ ক্ষুব্ধ বিসিবি সভাপতি।
তিনি বলেছেন, কেন সাকিব এমন কাণ্ড ঘটালেন, বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করলেন। তার ব্যাখ্যা চাইবেন সাকিবের কাছে।
শনিবার দেশে ফিরে সেই জবাব দেবেন সাকিব।
এদিকে জুয়াড়ি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে সেটি বাতিল করতে বাধ্য হওয়া একজন খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে রাখাটা ঠিক হবে কি না? সে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।
দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মন্তব্য, ‘বেনিফিট অব ডাউট’ বিষয় কী! এটা সাকিবের মতো একজন সিনিয়র ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সঙ্গে যায়!
কিউএনবি/অনিমা/১৩ অগাস্ট ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১২:১৫