বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন এক লাখ পাঁচ হাজার মেট্টিক টন ধারণ ক্ষমতার স্টিল রাইস সাইলোর কাজ আগামী বছরের জুন নাগাদ শেষ হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। রবিবার দুপুরে নির্মাণাধীন আধুনিক স্টিল সাইলোর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন ও স্টিল সাইলোর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম শেখ। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা বলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
এ সময় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খুরশিদ ইকবাল রিজভী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম, চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অরবিন্দ বিশ্বাসসহ খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় নির্মাণাধীন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকা। সাইলোটি চালু হলে খাদ্যপণ্যের গুণগত ও পুষ্টিমান দীর্ঘ সময় বজায় রাখা সম্ভব হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে হাতে নেওয়া আটটি প্রকল্পের নির্মাণ কাজ গত ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়। আশুগঞ্জ আধুনিক রাইস সাইলোটির নির্মাণ কাজ ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিলো। করোনা ভাইরাসের কারণে নির্মাণ কাজে কিছুটা ভাটা পড়ে। এছাড়া আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের কারণে মেঘনা নদীতে জেটি নির্মাণে জটিলতা ও নির্মাণকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু সমস্যায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটির কাজ শেষ করা যায়নি। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ প্রায় ৭৫ ভাগের বেশি শেষ হয়েছে। বর্তমানে দ্রুতগতিতে চলছে নির্মাণ কাজ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদ্য মজুদ পর্যাপ্ত ও মজবুত করতে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় দেশের কয়েকটি স্থানে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়নগঞ্জ, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ) খাদ্য মন্ত্রণালয় আধুনিকভাবে খাদ্য সংরক্ষণে ৩৫,৬৪৯ কোটি চার লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়। এর আওতায় ৫৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৪৯ হাজার ২৬৪ টাকা ব্যয়ে আশুগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে এক লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিক স্টিল সাইলো।
এ সাইলোটি ৩০টি সাইলো বিনে গঠিত হবে। প্রতিটি সাইলো বিনের ধারণ ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। এতে কীটনাশক ছাড়া আধুনিক চিলার (স্বয়ংক্রিয় তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) যন্ত্রের মাধ্যমে আদ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রেখে প্রায় দুই বছর চাল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে আধুনিক রাইস সাইলো নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী রেজাউল করিম শেখ বলেন, ‘এটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় চাল সংরক্ষণ, ব্যাগিং ও লেডিং-আনলোডিং প্রক্রিয়া করবে। অপারেটর নিজ কক্ষে বসে প্রতিটি সাইলো বিনের তাপমাত্রা স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন। ফলে সঠিক তাপমাত্রা ও আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
কিউএনবি/অনিমা/০১.০৮.২০২২/সকাল ১১.০৪