শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন

চার লাখে কিনে, বিক্রি ২৫ লাখ: কিডনি কেনা-বেচা চক্র গ্রেপ্তার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২০ জুলাই, ২০২২
  • ১১৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : অবৈধভাবে কিডনি কেনা-বেচার সংঘবদ্ধ চক্রের হোতাসহ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা, বনশ্রী, মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক নোমান আহমদ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা শহিদুল ইসলাম মিঠু (৪৯), মিজানুর রহমান (৪৪), আল মামুন ওরফে মেহেদী (২৭), মো. সাইমন (২৮) ও রাসেল হোসেন (২৪)। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়—অভিযানে কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর সঙ্গে চুক্তির এফিডেভিট কপি, ভুক্তভোগীদেরসহ মোট ১৪টি পাসপোর্ট, কিডনি ক্রসম্যাচিং-এর বিভিন্ন দলিলাদি, দেশি ও বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফটোকপি, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের জাল সিলমোহর, খালি স্ট্যাম্প, সিপিইউ, মোবাইল ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে নোমান আহমদ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিডনি কেনা-বেচা এ চক্রের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জন। তারা মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে কিডনি ক্রয়-বিক্রয়ের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এ চক্রের সদস্যেরা পাশ্ববর্তী দেশে অবস্থানরত কিডনি কেনা-বেচা সদস্যদের চক্রের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রায় শতাধিক মানুষকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করেছে বলে জানা যায়।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চক্রের প্রথম গ্রুপ ঢাকায় অবস্থান করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রয়োজন এমন বিত্তশালী রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। চক্রের দ্বিতীয় দলটি প্রথম দলের চাহিদা অনুযায়ী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব ও অভাবী মানুষদের চিহ্নিত করে এবং তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য ডোনার হতে প্রলুব্ধ করে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে তৃতীয় অন্য একটি গ্রুপ প্রলোভনের শিকার ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারদের ঢাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রত্যাশী রোগীর সঙ্গে ব্লাড ম্যাচিং এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে।

নোমান আহমদ বলেন, “ব্লাড ম্যাচিং এবং অন্যান্য ডায়াগনস্টিক টেস্টে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের উপযুক্ততা নিশ্চিত হলে, তার পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিং এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ভূক্তভোগী ডোনারকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করে। এ চক্রের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানকারী আরেকটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে ভূক্তভোগী কিডনি ডোনারকে বিদেশের এয়ারপোর্ট অথবা স্থলবন্দরে রিসিভ করা থেকে শুরু করে হাসপাতালের ডকুমেন্টেশন, অস্ত্রপাচারসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ভিকটিমদের বৈধ বা অবৈধ উপায়ে বিমান বা উত্তর পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকার মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠায়।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। প্রতিটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তারা রোগী প্রতি ২০ হতে ২৫ লাখ টাকা গ্রহণ করত। বিপরীতে তারা কিডনি ডোনারকে মাত্র চার থেকে সাড়ে চার চার লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করে এবং অগ্রীম দুই লাখ টাকা প্রদান করতো। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের পর প্রলোভনের শিকার কিডনি দাতাদের প্রতিশ্রুত অর্থ না দিয়ে নানাবিধ ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, চক্রের মূলহোতা ও অন্যতম অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম মিঠু ২০১৬ সালে নিজের চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশে গমণ করেন। সেখানে অবস্থানকালীন তিনি কিডনি প্রতিস্থাপনের রোগীদের ব্যাপক চাহিদা দেখতে পায় এবং তিনি নিজেই কিডনি প্রতিস্থাপনের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন।

কিউএনবি/অনিমা/২০ জুলাই ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:১৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit