মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন

আখাউড়ায় ডোর টু ডোর সেবা দিচ্ছেন – তথ্য আপা

বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।    
  • Update Time : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০২২
  • ২২১ Time View
বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ‘তথ্য আপা’ সেবাটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সমস্যায় পাশে দাঁড়ান তথ্য আপা। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়েও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রীদের কাছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারের নতুন সেবামূলক একটি প্রকল্প ‘তথ্য আপা’। তথ্য আপার কাজ হলো তৃণমূলে নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দেয়া। শিক্ষা,স্বাস্থ্য, কৃষি,ব্যবসা, জেন্ডার, আইন এই ৬টি বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা। নারীদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জাতীয় মহিলা সংস্থা। 

আখাউড়া উপজেলা তথ্যকেন্দ্র অফিস সূত্রে জানাযায়, এই কার্যক্রম ২০১৯ সাল থেকে আখাউড়া উপজেলায় পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৯ এর এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৪৬ জন নারীকে সেবা দেয়া হয়েছে। তারমধ্যে উপজেলা তথ্যকেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৯৫ জন নারী এসে সেবা গ্রহণ করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে (ডোর-টু-ডোর) ১০ হাজার ৫৯৭ জন এবং পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ৬১ টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ২ হাজার ৭৫০ জন নারীকে সেবা দেয়া হয়েছে।
দুইজন তথ্যসেবা সহকারী নুসরাত আলম স্বর্ণা ও তানিয়া আক্তার ছাড়াও একজন অফিস সহায়ক সেবাকেন্দ্রে নিয়োজিত রয়েছেন। তারা উপজেলায় অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ,স্বামী ও দেবর কর্তৃক নারী নির্যাতন সমাধান, যৌতুক নিরোধ ও প্রতি মাসে তৃণমূল নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করে তাদেরকে সচেতন করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন কলেজ ছাত্রী তথ্যকেন্দ্রে এসে তথ্যআপার কাছ থেকে সেবা নিচ্ছেন। এসময় শিক্ষার্থী মাহরুমা মিমি ও আসমাউল হুসনা জানান, বি.এ পাস করে চাকরি খোঁজার চেষ্টা করছি। তথ্যকেন্দ্রে তথ্য আপার কাছে এসে অনলাইনে বিনা মূল্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছি। পৌরশহরের নারায়নপুরের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার বলে, আমি এইচ.এস.সি পাস করেছি, এখন চাকরির জন্য চেষ্টা করছি। তথ্যকেন্দ্রে তথ্য আপার কাছে গিয়ে অনলাইনে বিনা মূল্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছি। 
 
উপজেলার বাউতলা এলাকার গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন, আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে খুব সমস্যায় পড়েছিলাম। এ বিষয়ে তথ্য আপাকে জানানোর পর তারা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেন। আমি তখন ঘরে বসেই চিকিৎসাসেবা পেয়েছি। উপজেলার হিরাপুর এলাকার লায়লা আক্তার বলেন, তথ্য আপারা গ্রামে এসে ইন্টারনেট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কৃষিবিষয়ক উঠান  বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা করে থাকেন। তারা আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। আমরা এখন নতুন অনেক কিছু শিখেছি। অনেক কিছু জানতে পারছি।
 
উপজেলা তথ্যসেবা সহকারী নুসরাত আলম স্বর্ণা বলেন, তথ্যকেন্দ্র অফিসের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ডিজিটাল সেবাটা কী, কিভাবে এ সেবা পাওয়া যাবে এসব বিষয়ে আলোচনা করে থাকি। মহিলাদের ডায়াবেটিকস পরীক্ষা,রক্তচাপ পরীক্ষা,তাপমাএা ও ওজন মেপে থাকি। আস্তে আস্তে এ উপজেলায় তথ্য আপা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 
 
এই বিষয়ে আখাউড়া তথ্যসেবা কর্মকর্তা (তথ্য আপা) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, তথ্যকেন্দ্রে নারীদের সবধরনের সেবা বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। এখানে শুধু নারীদের সেবাই দেওয়া হয়। সরকারের এ মহৎ উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত নারীরা আজ আলোর মুখ দেখছে, তাদের অন্ধকারের পর্দা সরে যাচ্ছে। অফিসের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে উঠান বৈঠক করে ডিজিটাল সেবা কী, কিভাবে সেবা পাওয়া যাবে এসব বিষয়ে আলোচনা করি। ভবিষ্যতে সেবার মান আরো বাড়ানো হবে তিনি জানান । 
 
আখাউড়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন শফিক আলেয়া বলেন,নারীর ক্ষমতায়নে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। গ্রামের অসহায়,দরিদ্র,সুবিধাবঞ্চিত নারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং তাদেরকে তথ্যপ্রযুক্তির সেবা প্রদান নিঃসন্দেহে নারীর ক্ষমতায়নকে আরো ত্বরান্বিত করবে। তথ্যআপার উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নারী বিভিন্ন ধরনের সেবা পাচ্ছে। বিষয়টা অনেকেই জানতো না। তিনি নারী উন্নয়নের জন্য পরিচালিত ওই প্রকল্পে সকলকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১০.০৬.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit