আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক দুই প্রতিষ্ঠান ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি) ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি সেন্টারের (এনআরসি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। রেকর্ডসংখ্যক এই মানুষের ঘরছাড়ার কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংঘর্ষকে দুষছে প্রতিষ্ঠান দুটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময় কিছু মানুষ একাধিকবার তাদের বাসস্থান ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এর আগে ২০২০ সালেও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ঘটনা দেখেছিল বিশ্ব। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগেও অনেকেই নিজের বাসস্থান ছেড়ে যান।
২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘর্ষের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৪৪ লাখ। যা এর আগের বছরের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। গত বছর আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোয় অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি এমনটাই উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। শুধু ইথিওপিয়াতেই ৫০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে। দেশটির টাইগ্রে অঞ্চলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও তীব্র খরার কারণে এ বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে। এছাড়া ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও আফগানিস্তানেও ব্যাপক মানুষ বাসস্থান ছেড়েছেন।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর সেখানেও বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে সিরিয়া, লিবিয়া ও ইরাকে উত্তেজনা কমতে শুরু করায় মধ্যপ্রাচ্যে বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে বলে প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। সংঘর্ষ ছাড়াও এখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের কারণে অভ্যন্তরীণ নতুন বাস্তুচ্যুতির ঘটনা বেশি। গত বছর ২ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ মানুষ ঘূর্ণিঝড়, মৌসুমি বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং খরার মতো আবহাওয়া এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপর্যয়ের মুখে বসতভিটা হারিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। একইসঙ্গে কীভাবে সংঘাত প্রতিরোধ ও সমাধান করা যায় সে বিষয়ে বিশ্বনেতাদের চিন্তাভাবনায় বিশাল পরিবর্তন দরকার।
কিউএনবি/আয়শা/২০.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১:০২