সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও কমল টাকার মান

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৬ মে, ২০২২
  • ১০৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছেই। বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডলারের বিপরীতে টাকা মান হারাচ্ছে। এক দিনেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান ক‌মে গে‌ছে ৮০ পয়সা। আর গত ২০ দিনের ব্যবধা‌নে তিন দফায় ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হলো এক টাকা ৩০ পয়সা। সোমবার প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ৮০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হলেও আমদানিকারকদের খরচ বাড়বে।

এখন আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। এক‌দিন আগেও এক ডলা‌রে লেগেছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা। আর গত ১০ মে ছিল ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ২৭ এপ্রিল ছিল ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। ব্যাংকগুলো নগদ ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে পাঁচ থেকে ৭ টাকা বেশি দরে। ব্যাংকের বাইরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে ৯২ থেকে ৯৭ টাকায়। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট দেখা দেয়। ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান শুধু কমছেই।

২০২১ সালের আগস্টের শুরুতেও আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলারের মূল্য একই ছিল। এরপর ৩ আগস্ট থেকে দুই-এক পয়সা করে বেড়ে ২২ আগস্ট প্রথমবারের মতো ৮৫ টাকা ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি আবার বেড়ে যায়, গিয়ে পৌঁছায় ৮৬ টাকায়। গত ৯ মাসের ব্যবধানে প্রতি ডলারে দাম বেড়েছে এক টাকা ৯০ পয়সা। সর্বশেষ ৯ মে ডলারের বিনিময় মূল্য ২৫ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে জানুয়ারি মাসের শুরুতে ডলারের বিনিময় মূল্য ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর ২৩ মার্চ তা আরও ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছিল। 

গত ২৭ এপ্রিল বাড়ানো হয় ২৫ পয়সা। তাতে ১ ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়ায় ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। যদিও খোলাবাজারে ডলারের দাম বহু আগেই ৯০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। খোলাবাজারে এখন ডলারের দাম ৯৩ টাকার বেশি। আর আমদানির এলসির বিপরীতে আমদানিকারকদের ডলার কিনতে হচ্ছে ৯৫–৯৬ টাকায়। এদিকে করোনার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায় আমদানি বেড়েছে। একইসঙ্গে আমদানি পণ্যের দামও বেড়েছে। সব মিলে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই ফেব্রুয়ারি সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৪৭ শতাংশ, এলসি খোলা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া করোনার কারণে স্থগিত এলসির দেনা এখন পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে চলমান বৈদেশিক ঋণের কিস্তির পাশাপাশি করোনার সময়কার স্থগিত কিস্তি। সব মিলে বাজারে ডলারের চাহিদা বেশি। কিন্তু সেই তুলনায় রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বাড়েনি। ফলে ব্যাংক ব্যবস্থা ও খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দি‌য়ে‌ছে।

অপরদিকে মার্কিন মুদ্রা ডলার ও যুক্তরাজ্যের মুদ্রা পাউন্ডের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরোর বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়নি। বরং এর বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। গত বছরের (২০২১) শুরুর দিকে প্রতি ইউরো বিক্রি হতো ১০৩ টাকা ১১ পয়সা দরে। বছর শেষে তা বিক্রি হয়েছে ৯৯ টাকা ৮৯ পয়সা দরে। আলোচ্য সময়ে টাকার মান বেড়েছে ৩ দশমিক ১২ শতাংশ। 

একই সময়ে নগদ ইউরোর দাম ১০২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে টাকার মান বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে ইউরোর বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। করোনার কারণে ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। টাকার সেভাবে দরপতন হয়নি। এ কারণে ইউরোর বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশে বেশিরভাগ এলসিই খোলা হয় ডলারে। ইউরোতে খোলা হয় খুবই কম। ফলে ইউরোর বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ার সুবিধা দেশ পায়নি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৬.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৫:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit