মোঃ সালাহউদ্দিন আহমেদ,নরসিংদী : নরসিংদীতে গ্রাহকদের শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এক সমিতি লাপাত্তা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের ওই সমিতি ইসলামি শরিয়া মোতাবেক পরিচালিত বলে প্রচার করে আসছিল। এভাবে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রকল্প থেকে মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে জেলার চার উপজেলার কয়েক হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধনও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগের পর আমানত খুইয়ে এখন পথে বসেছেন হাজারো গ্রাহক। ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা জানান, ২০১০ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদিয়া এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড।
সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদিত ও নিয়ন্ত্রিত দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ব্যবসায়িক প্রকল্পের বিনিয়োগের প্রলোভন দেখায় লোকজনকে। আকর্ষণীয় মুনাফার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ শুরু করে। প্রথম দিকে চুক্তি ও শর্ত অনুযায়ী গ্রাহকদের আকর্ষণীয় মুনাফাও দিতে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এভাবে একে একে শাহ সুলতান টেক্সটাইল মিল, শাহ সুলতান প্রোপার্টিজ ও মার্কেটসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে নিজেদের লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানোয় বাড়তে থাকে গ্রাহকসংখ্যা। পরে পর্যায়ক্রমে সদর উপজেলার পাশাপাশি পলাশ, শিবপুর ও মনোহরদী উপজেলাতেও খোলা হয় প্রতিষ্ঠানটির শাখা অফিস। অনেক প্রবাসী তাঁদের আয় করা টাকা, অনেকে জমি বিক্রির টাকা, এমনকি অন্যান্য ব্যাংকে রাখা টাকাও উত্তোলন করে বিনিয়োগ করেন এখানে। গ্রাহকেরা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়গুলোতে কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত ও এলাকায় বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত লোকজন।
তাঁরা গ্রাহকদের প্রলোভনে ফেলে সংগ্রহ করেন কোটি কোটি টাকা আমানত। প্রতি মাসে মুনাফা পাওয়ায় অনেক প্রবাসী তাঁদের আয় করা টাকা, অনেকে জমি বিক্রির টাকা, এমনকি অন্যান্য ব্যাংকে রাখা টাকাও উত্তোলন করে বিনিয়োগ করেন এখানে। জেলাজুড়ে অন্তত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর গত জানুয়ারি মাস থেকে লাপাত্তা প্রতিষ্ঠানটি। নরসিংদী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. সালমান ইকবাল জানান, বিধি অনুযায়ী এসব সমিতি বড় লেনদেন করতে পারে না।
নিয়মিত অডিটের সময় এই সমিতি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমন কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এখন তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ আসছে আমাদের উপজেলা কার্যালয়গুলোতে। গ্রাহকদের দেওয়া এসব অভিযোগ জেলা কার্যালয়ে আসার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সমিতির নিবন্ধন বাতিল করাসহ সমিতির সম্পদ লিকুইড করে সদস্যদের মধ্যে বিতরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কিউএনবি/অনিমা/২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সকাল ৯:৫১