
স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(য়শোর) : যশোরের মনিরামপুরে গত দুইদিনের ব্যবধানে পৃথক তিন সড়ক দূর্ঘটনায় দুই কিশোর বন্ধু, এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী সহ চারজন নিহত হয়েছে। এসব দূর্ঘটনায় আহত হয়েছে মনিরামপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমানসহ ১৪ জন। এর মধ্যে বুধবার রাতে নেহালপুর সড়কের সাতগাতী মোড়ে কিশোর তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় ইটবোঝাই ট্রলির সাথে ধাক্কা খেয়ে তারা গুরুতর আহত হয়। এর মধ্যে ওই রাতেই দুই বন্ধু রাসেল হোসেন (১৬) ও রনি হোসেন(১৬)এর মৃত্যু হয়। অপর বন্ধু হৃদয় হোসেন(১৬)কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। একই দিনে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দোনার মোড়ে পিছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় আলমসাধু উল্টেগিয়ে আবদুল হান্নান(৩৫) নামে এক গাছাকাটা শ্রমিক নিহত ও ১২ জন আহত হয়।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর বকচরে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী শিক্ষানবিশ আইনজীবী আলমগীর হোসেন(৩২) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এসময় গুরুতর আহত হয় মনিরামপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান। মুজিবুরকে উদ্ধারের পর যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।তার বাম পাটি ভেঙ্গে গেছে। মনিরামপুরের গোপালপুর বাজারের পল্লী চিকিৎসক আতিয়ার রহমান জানান, উপজেলার বাহিরঘরিয়া গ্রামের শাহাবুদ্দীন আহম্মেদের ছেলে রাসেল হোসেন, তবিবর রহমানের ছেলে রনি হোসেন ও জসিম উদ্দিনের ছেলে হৃদয় হোসেন তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে বুধবার সন্ধ্যার দিকে নেহালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাত সাড়ে সাতটার দিকে সাতগাতী সরদার মিলের সামনে পৌছলে রাস্তার উপরে থেমে থাকা ইটবোঝাই একটি ট্রলির সাথে ধাক্কা খায়।
এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিন বন্ধুই গুরুতর আহত হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধারের পর প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগ থেকে রাসেল হোসেনকে মৃত ঘোষনা করা হয়। পরে রনি ও হৃদয়কে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই মৃত্যু হয় রনির। পরবর্তিতে ওই রাতেই হৃদয়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও রনির জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। তাদের এ অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। অন্যদিকে বুধবার সকাল নয়টার দিকে মনিরামপুর থেকে ১৩ জন গাছকাটা শ্রমিক একটি আলমসাধুতে করে কুয়াদার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দোনার মাড়ে পৌছলে পিছন থেকে একটি ট্রাক(যশোর-ট-১১-৪১৩৭)আলমসাধুকে ধাক্কা দিলে রাস্তার পাশে উল্টে পড়ে। এ সময় আলমসাধুতে থাকা ১৩ শ্রমিক আহত হয়।
পরে তাদেরকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল হান্নানের মৃত্যু হয়। নিহত হান্নান(৩৫) বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় কচুয়া গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে । আহতরা হলেন আবদুল মান্নান, নুরু মিয়া, ওয়াজেদ আলী গাজী, আবদুস সাত্তার, আবদুল হান্নান, আবদুল গফ্ফার, ওসমান আলী, বোরহান উদ্দিন, লিয়াকত আলী, আনোয়ার হোসেন, কবির হোসেন ও ইসমাইল হোসেন। এরা সবাই যশোর-চুকনগর মহাসড়কের গাছ কাটা শ্রমিক ছিলেন। এদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায়। তবে পুলিশ দোনারে দূর্ঘটনায় দায়ি ট্রাকটি আটক করেছে। অপরদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর আদালত থেকে মনিরামপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খানপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে বেলা দেড়টার দিকে যশোর বকচর জোড়া মন্দিরের সামনে পৌছলে সামনে থেকে আসা একটি ট্রাক তাদেরকে চাপা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় শিক্ষানবিশ আইনজীবী আলমগীর হোসেন। গুরুতর আহত হন অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান। পরে মুজিবুরকে উদ্ধারের পর যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মুজিবুরের বাম পাটি ভেঙ্গে যায়। নিহত শিক্ষানবিশ আইনজীবী আলমগীর হোসেন মনিরামপুর পৌরশহরের স্বরুপদাহ এলাকার জয়নাল হোসেনের ছেলে। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নূর ই আলম সিদ্দিকী জানান, মনিরামপুরে দূর্ঘটনার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। তবে দোনারের দূর্ঘটনায় দায়ি ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/রাত ১০:৩৮