খাদীজা আক্তারের ছোট ভাই মমিনুল জানায়, আমি খবর পেয়ে দ্রুত গ্রাম থেকে চলে আসি। এসে আমার বোনকে নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পেয়েছি। পরে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাই। এরপরে আমার বোনের কাছ থেকে জানতে পারি ওর পাশের রুমে তৃপ্তি নামে এক পোশাক শ্রমিক থাকতো। তার রুমে গ্যাস সিলিন্ডার ছিলো। ওই সিলিন্ডার সম্ভবত লিকেজ হয়ে গ্যাস পুরো রুমে ছড়িয়ে পড়ে। তৃপ্তি আমার বোনকে তার রুমে ডেকে নিয়ে যায়। এরপরে আমার বোন খাদিজা ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরাতে গেলে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এই ঘটনায় আমার বোন ও তৃপ্তি দগ্ধ হয়।
তৃপ্তির বোন জামাই শাওন জানায়, আমার শালি আশুলিয়ায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকুরী করতো। ও যে রুমে থাকতো ওই রুমের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে গুরুতর দগ্ধ হয়। তাকে সেখাকার স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তার অবস্থা অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দেখা শুনা করতে ওই রকম কোন লোকজন না থাকায় নিজ জেলার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাড়ির মালিক হামিদুল ইসলাম স্বপন জানায়, আমি বৃহস্পতিবার রাতে আগুন লাগার খবর পাই। অসুস্থ থাকায় ওইদিন রাতে আসতে পারি নাই। তবে ঘটনার পরের দিন এসে দগ্ধদের খোঁজ-খবর নিয়েছি।
এবিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ডিইপিজেড শাখার সিনিয়র অফিসার মোঃ জহীরুল ইসলাম বলেন, আমরা সাধারণত অগ্নীকান্ডসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় সহায়তা প্রদান করে থাকি। জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে থাকি। যেহুতু তারা এবিষয়ে গোপন করেছে সেহুতু আমাদের কিছুই করার নেই। তবে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করলে আইনি সহায়তা পেতে পারে অগ্নীদগ্ধরা।