সজিব হোসেন ,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁয় নির্মাণাধীন একটি ভবনের প্রাচীর ধ্বসে কেদার নাথ রায় (৭০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার সান্তাহার-নওগাঁ সড়কের পাশে খাট্টা সাহাপুর এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত কেদার নাথ রায় ওই এলাকার বাসিন্দা এবং একটি জুট প্রেসের সাবেক ব্যবস্থাপক ছিলেন। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস থেকে ওই এলাকায় সাবেক মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৃত বাইজিতের মেয়ে মোছা. রুমা একটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ করে আসছেন। ওই নির্মাণাধীন ভবনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মাণ কাজ করা হচ্ছিল। সোমবার সকালে নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলার একটি প্রাচীর হঠাৎ ধ্বসে পাশের বাড়ির একটি টিনের ঘরের ওপর পড়ে যায়। এতে ঘরের ভেতরে থাকা কেদার নাথ গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বিকেলে মারা যান। এটি প্রথম ঘটনা নয়, এর আগেও একই ভবন থেকে ইট পড়ে সোনাভান নামে এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এছাড়া এক মোটরসাইকেল আরোহী অভিযোগ করে বলেন, ভবনের বেরিয়ে থাকা বিমের কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় আমি মারাত্মক দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি।
এলাকাবাসী জানায়, ভবনটি যে জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে তা পূর্বে বিহারি সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন ছিল এবং বর্তমানে সরকারি গেজেটভুক্ত জমি হিসেবে রয়েছে। প্রায় এক যুগ আগে স্থানীয় মসজিদ কমিটি নিয়মবহির্ভূতভাবে জমিটি বাইজিতের নামে বন্দোবস্ত করে দেয়। এরপর সেখানেই চারতলা ভবন নির্মাণ শুরু হয়।এদিকে ইউনিয়ন ভূমি অফিস একেবারে কাছেই থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মৃত কেদার নাথের ছেলে রঞ্জন কুমার রায় বলেন, প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ভবনটির নির্মাণ কাজ করা হচ্ছিল। ইতোপূর্বে কয়েকবার আহতের ঘটনা ঘটেছে। ভবনের মালিকদের সর্তক করার পরও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাদের অসাবধানতার কারণে ভবনের প্রাচীর ধ্বসে বাবার মৃত্যু হয়েছে। কার কাছে আর কি অভিযোগ করবো। সন্ধ্যায় সৎকাজ শেষ করা হয়।এ বিষয়ে ভবনের মালিক মোছা. রুমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিউএনবি/অনিমা/১৮ মার্চ ২০২৬,/রাত ৫:১৬