
সিলেট প্রতিনিধি : বেশ কিছু দিন থেকে অনেকটা নিরবে প্রচার-প্রচারণা চালালেও এবার আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ টি এম এ হাসান জেবুল। (১০ফেব্রুয়ারি) নগরীর আম্বরখানা এলাকার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের সাথে এক মতবিনিময় সভা শেষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এর আগে মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ তাঁকে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের দাবি জানান। সভায় অনেকে তাদের ব্যাক্তিগত অভিমত ব্যক্ত করেন। সকলের দাবি ও মতামতের ভিত্তিতে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন হাসান জেবুল। এসময় সকলের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহবান জানান তিনি। একই সাথে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলেও জানান এ আওয়ামী লীগ নেতা।
মতবিনিময় সভায় এটিএমএ হাসান জেবুল বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। দলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে ছাত্রজীবনেও আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। দীর্ঘদিন বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিলে আমার শুভাকাঙ্খীরা আমাকে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বলে আসছেন। যেহেতেু আমি একটি রাজনৈতিক দল করি সেহেতু দল থেকে মনোনয়ন পেলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব। সৎ, যোগ্য ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করলে দলও আমাকে মনোনয়ন দিবে বলে আমি আশাবাদি।
তিনি বলেন, নির্বাচনে নৌকা প্রতীক যে পাবে, আওয়ামী লীগের ভোট সেই পাবে। ব্যাক্তি কে সেটা আওয়ামী লীগ খোঁজবে না। আওয়ামী লীগ সেই মানুষটিকে খোঁজবে যার নৌকার বাইরেও ব্যাক্তি হিসেবে ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আওয়ামী লীগের বাইরের অনেক মানুষও আমাকে ব্যাক্তিগতভাবে পছন্দ করেন। তাই আমি নৌকা পেলে দলীয় ভোট ছাড়াও সাধারণ মানুষের প্রচুর ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা শুধু আমার প্রত্যাশা না, আত্মবিশ্বাসও।
মতবিনিময় সভায় বিশিষ্টজনরা বলেন, সিলেটের উন্নয়নে এটিএমএ হাসান জেবুলের মত একজন সজ্জন মানুষ নগর পিতার আসনে বসতে হবে। তিনি নগরের হাল ধরলে অনেক দুর এগিয়ে যাবে সিলেট সিটি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া পরিচ্ছন্ন এ রাজনীতিবিদ নির্বাচনে অংশ নিলে আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে পাশে থাকার চেষ্ঠা করবো। সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গাও পূর্ণতা পাবে।
বক্তারা আরও বলেন, হাসান জেবুল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। অসংখ্যবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের হামলার শিকার হয়েছেন। ২০০৪ সালে গুলশানে গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সংগঠনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও সমৃদ্ধ। আমরা আশাবাদি আওয়ামী লীগ এরকম একজন নেতাকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দান করবে।
তাঁরা আরও বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মত ব্যাক্তি হিসেব সাধারণ মানুষের কাছে জেবুলও খুব জনপ্রিয়, পরোপকারি ও অমায়িক মানুষ। তাই অতীতের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে জেবুলকে দলীয় মনোনয়ন দিলে আওয়ামী লীগ সঠিক সিদ্ধান্তই নিবে। সিলেটের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে জেবুলকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আমরাও দেখতে চাই। এসময় সৎ নিষ্ঠাবান ও আদর্শিক নেতা হিসেবে এটিএমএ হাসান জেবুলকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জানান বক্তারা। মতবিনিময় সভায় রাজনীতিক, আইনজীবি, শিক্ষক, চিকিৎসক, পেশাজীবি ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার দেড়শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কিউএনবি/আয়শা/১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:১৮