
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ায় আইএসপ্রধান আবু ইব্রাহিম অল-হাশিমি অল-কুরেশিকে ধরতে যে অভিযান চালিয়ে মার্কিনবাহিনী, তাতে ৬ শিশু ও চার নারীসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। মার্কিনবাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ভয়ে পরিবারসহ নিজেকে বিস্ফোরকে উড়িয়ে দেন আইএস প্রধান আবু ইব্রাহিম অল-হাশিমি অল-কুরেশি। খবর আনাদোলুর।
যদিও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর গোপন অভিযানেই প্রাণ হারিয়েছেন আইএস প্রধান। আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি দাবি করেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী গত বুধবার মধ্যরাতে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায়। জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দার বিরুদ্ধে মূলত এই অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে নিহত হয়েছেন আইএস প্রধান।
এই অভিযানের পর সিরিয়ার উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, লড়াই শুরুর পর একটি বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণের অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছ’জন শিশু ও চার নারী রয়েছেন। পরে জানা যায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আইএস প্রধান আবু ইব্রাহিম অল-হাশিমিন অল-কুরেশি ও তার স্ত্রী এবং শিশুরা।
ইরাকের নাগরিক আবু ইব্রাহিম অল-হাশিমি অল-কুরেশি সিরিয়া থেকে আইএসকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে দাবি মার্কিনবাহিনীর। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে সিরিয়ায় আমেরিকার অভিযানের সময় আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি নিহত হন। তার পরই নেতৃত্বে আসেন ইব্রাহিম অল-হাশিমি।
সিরিয়ায় স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সশস্ত্র এই সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত। অভিযানে মার্কিন যুদ্ধবিমানের ছত্রছায়ায় অন্তত তিনটি হেলিকপ্টার আতমাহ গ্রামের একটি তিনতলা বাড়িতে হামলা চালায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিমানটি পূর্ব সিরিয়া থেকে উড্ডয়ন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সিরিয়ার কুর্দি যুদ্ধারা তার সন্ধান মার্কিনবাহিনীকে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
কিউএনবি/আয়শা/৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সকাল ১০:২৩