দিনাজপুর আঞ্চলিক তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজবর্ধনকেন্দ্রের অধীনে সদর উপজেলাসহ ৭টি উপজেলায় চাষিরা তুলা চাষ করছেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের এই খামারে চুক্তিবদ্ধ ও তালিকাভুক্ত চাষিদের মাধ্যমে মানসম্পন্ন তুলাজীব উৎপাদন, চাষিদের উন্নতমানের তুলাবীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ঋণ ও অন্যান্য উপকরণ প্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদান, উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, চাষিদের আগ্রহ সৃষ্টি ও উদ্বুদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে।
দেশের চাহিদার শতকরা মাত্র ১০ ভাগ উৎপাদিত হয়। বাকি ৯০ ভাগ তুলা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এক একর জমিতে তুলা চাষ করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। প্রতি হেক্টর জমিতে এক দশমিক ৬ টন তুলা উৎপাদিত হয়। খামারে কর্মরত চাষি ও শ্রমিকরা প্রশিক্ষণসহ তুলা আবাদে ভূমিকা রাখছেন।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের এই খামারে চুক্তিবদ্ধ ও তালিকাভুক্ত চাষিদের মাধ্যমে মানসম্পন্ন তুলাজীব উৎপাদন, চাষিদের উন্নতমানের তুলাবীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ঋণ ও অন্যান্য উপকরণ প্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদান, উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, চাষিদের আগ্রহ সৃষ্টি ও উদ্বুদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য আলোচনা-সমাবেশ, তুলা চাষের জন্য উপযুক্ত জমি জরিপ, আগ্রহী চাষিদের তালিকাভুক্তকরণ, তুলাচাষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন ও গবেষণাবিষয়ক যেকোনো তথ্য প্রদান এই কেন্দ্রের অন্যতম কার্যক্রম ও সেবা।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের তুলা গবেষণা বোর্ডের আওতাধীন একমাত্র প্রতিষ্ঠান দিনাজপুর আঞ্চলিক তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজবর্ধনকেন্দ্রের অধীনে সদর উপজেলাসহ ৭টি উপজেলায় চাষিরা তুলা চাষ করছেন। সমভূমিতে তুলা উৎপাদন বাড়াতে সহজ শর্তে সরকার গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং চাষিদের ব্যাংকঋণসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করলে উন্নতমানের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাতীয় অর্থনীতিতে তারা অবদান রাখতে পারবেন বলে তুলা চাষিরা আশা করছেন।
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানা ইয়াসমিন জানান, বেলে-দোআঁশ মাটি তুলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভজনক এই পণ্যটি উৎপাদন করতে সময় লাগে ৬ মাস।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক জাফর আলী জানান, মানসম্পন্ন তুলাজীব উৎপাদন, চাষিদের উন্নতমানের তুলাবীজ সরবরাহসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রাপ্তিতে তুলা বোর্ড সহায়তা
প্রদান করে আসছে। ১৯৭২ সালে তুলা উন্নয়ন বোর্ড গঠন হয়। ১৯৮২ সালে দিনাজপুরের তুলা উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৩১ হেক্টরসহ জেলার ৭ উপজেলায় ২০৫ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে।