সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন

বাবরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শেষ করে দেয়ার দাবি পাকিস্তানের কিংবদন্তিদের

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) একপেশে ম্যাচে বাবর আজম, শাদাব খান ও শাহিন আফ্রিদি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। ভারতের তরুণ ওপেনার ঈশান কিশান (৪০ বলে ৭৭) পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। জবাবে পাকিস্তানের ব্যাটাররা ভারতের শীর্ষ পেসার ও স্পিনারদের সম্মিলিত আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েন।

এমন ম্লান পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি বলেন, ‘আমার হাতে থাকলে আমি টি–টোয়েন্টি দলে বাবর, শাদাব ও শাহিনকে আর নিতাম না। পাকিস্তানের হয়ে নিজেদের প্রমাণের অনেক সুযোগ তারা পেয়েছে, কিন্তু আবারও ব্যর্থ হয়েছে।’

আফ্রিদি মনে করেন, এখন সময় তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার। শাহিন দুই ওভারে ৩১ রান দেন, আর বাবর ১৭৬ রানের কঠিন লক্ষ্যে মাত্র ১৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর অবস্থায় বড় শট খেলতে গিয়ে অক্ষর প্যাটেলের বলে ৫ রানে বোল্ড হন।
 
আরেক সাবেক অধিনায়ক ও ব্যাটিং কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াদাদ বড় ম্যাচে দলে ক্যারেক্টারের অভাব দেখছেন, ‘ভাই, বড় ম্যাচেই খেলোয়াড়দের ক্যারেক্টার দেখাতে হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের খেলোয়াড়রা সেটা দেখাতে পারেনি।’

সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ যিনি বরাবরই বাবরের সমর্থক ছিলেন, তিনিও বলেন এই ভরাডুবির পর বাবর ও শাহিনের টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শেষ হওয়া উচিত। ইউসুফ এক্সে লিখেছেন, ‘শাহিন, বাবর ও শাদাবের সময় শেষ। পাকিস্তানের টি–টোয়েন্টি দলে এখন নতুন পারফর্মার দরকার, দুর্বল দলের বিপক্ষে ফাঁপা জয় নয়।’

সাবেক স্পিডস্টার শোয়েব আখতার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে বাবরের ‘সুপারস্টার’ তকমা নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা এমন একজনকে সুপারস্টার বানিয়েছেন, যে আপনাকে ম্যাচ জেতাতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৫–২০ বছরে কোনো বিনিয়োগই হয়নি। একসময় আমরা মাঠে ভারতের সঙ্গে লড়তাম, এখন তাদের হারানোর স্বপ্নও দেখি না।’

বাবরের দীর্ঘদিনের সমালোচক আহমেদ শেহজাদ মনে করেন, হয়তো এটাই ছিল এই ফরম্যাটে বাবরের শেষ ম্যাচ। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘বাবর আবারও ব্যর্থ। হয়তো নিজের যোগ্যতা প্রমাণের এটাই ছিল শেষ নাচ।’

এই পরাজয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেট মহল হতাশ হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, হয়তো বাংলাদেশের সমর্থনে বয়কটের ডাক মানা উচিত ছিল।

সাবেক অধিনায়ক মঈন খান বলেন, ‘আমরা আবার আশাবাদী হয়েছিলাম, কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ভেতরে ভেতরে মনে হচ্ছিল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভারতই জিতে যাবে।’
 
মিয়াদাদ অবাক হয়ে প্রশ্ন তোলেন, কেন পাকিস্তান একমাত্র পেসার হিসেবে শুধু শাহিনকেই খেলিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফাহিম আশরাফকে কেন বোলিং করানো হলো না? ছয়জন স্পিনার খেলানো কেমন কৌশল?’

সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টানা জয়ের পর দলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল। তার ভাষায়, ‘এবার আশাবাদের যথেষ্ট কারণ ছিল। দল আধুনিক টি–টোয়েন্টির চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছিল এবং কোচ মাইক হেসন ও অধিনায়ক সালমান আলী আগার অধীনে স্বচ্ছন্দ দেখাচ্ছিল। কিন্তু আমরা ভুলে গিয়েছিলাম ভারত কতটা শক্তিশালী দল।’

তিনি যোগ করেন, ‘তারা বড় ম্যাচের দল এবং প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজের ভূমিকায় মানানসই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গতকালের ম্যাচে স্পষ্ট হয়েছে, আমাদের পরিকল্পনাই ভুল ছিল।’

 

কিউএনবি/খোরশেদ/১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৫:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit