বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন

জমি দখলের আশঙ্কায় জিডি করে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার দুই মালিক

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৯৩ Time View

 

সিলেট প্রতিনিধি : নিজেদের ভূমি জবর দখলের আশঙ্কায় জিডি করে উল্টো সাজানো চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ভূমির দুই মালিক। বুধবার ২৬ জানুয়ারী শাহপরান (রহ.)’র থানায় উপস্থিত হয়ে তাদের জমি জবরদখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে একটি সাধারণ ডায়েরী করেছিলেন জমির মালিক শাহপরান (রহ.) থানাধীন গোলাপবাগ এলাকার তাহুর আহমদ শিব্বির ও আবদুল মুকিত রমজান। জিডি নং-১৪০৫।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) শাহপরান থানায় উপস্থিত হয়ে দাখিলকৃত সাধারণ ডায়েরীতে তারা উল্লেখ করেন, উক্ত থানাধীন সাদিপুর মৌজার ২য় খন্ড, জেএল-৯৮ এর ৪৬ এসএ খতিয়ানের অর্ন্তভূক্ত নামজারি-৪৩২৯, এসএ ১৫২৭ দাগের ১৫ শতক ভূমির মালিক দখলদার তারা। এই ভূমি তারা ভোগ দখল করে আসছেন। তাদের মালিকানাধীন ভূমি জবরদখল করতে বিআইডিসি এলাকার শিপলু, ফরহাদসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জন হুমকি-দামকি দেন। তারা মাটি ভরাট করতে গেলে শ্রমিকদের কাজে বাধা বিপত্তি প্রদানসহ হুমকি দিয়ে কাজে ব্যঘাত সৃষ্টি করেন। এদিকে, তাদের দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরীর তদন্তের দায়িত্ব পান থানার এসআই ইবায়দুল্লাহ। তিনি জিডির তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পান। প্রমাণ হিসেবে ছবিও তুলে আনেন।

 

কিন্তু রহস্যজনক কারণে উল্টো ভূমির মালিকের বিরুদ্ধে একটি উগ্রবাদি সংগঠনের নেতা ইকবাল হোসেনকে বাদি করে চাঁদাবাজি মামলা (নং-২৯(০১’২২) দায়ের করা হয়। অথচ ইকবাল হোসেন ওই ভূমির মালিক নয়। দক্ষিণ সুরমার তুড়ুকখলার শফিকুল হক চৌধুরীর ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী কামাল চৌধুরী ও তার স্ত্রী স্বপ্না চৌধুরী ভূমির মালিক দাবিদার বানিয়ে তাদের পক্ষে দেখাশোনা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন ইকবাল। তিনি এজাহারে আরও বলেন, মাটি ভরাটে ঠিকাদার শিপলু আহমদ ও দেয়াল নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদার ফরহাদকে কাজ বন্ধে নাকি ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। অথচ চাঁদাবাজি মামলায় যাদের ঠিকাদার বলা হয়েছে, তাদের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।

জানা গেছে, শিপলু ও ফরহাদ ছাত্রদলের কুখ্যাত সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ভূমির দখলে ও মামলায় সাক্ষি হিসেবে তাদেরকেই ব্যবহার করেছেন বাদি। সূত্র জানায়, শুক্রবার ও শনিবার সকাল পর্যন্ত অভিযোগকারী ইকবাল হোসেন ও সাক্ষিদের নিয়ে নগরীর সুবহানীঘাটে বিএনপি নেতার মালিকানাধীন ট্রান্সপোর্ট অফিসে বৈঠক শেষে পরিকল্পিতভাবে ভূমির মালিকদের বিরুদ্ধে সাজানো চাঁদাবাজি মামলার সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক তড়িৎ গতিতে দুপুরেই থানায় চাঁদাবাজি মামলা রেকর্ড করা হয়। ওই মামলায় জিডি দায়েরকারী আব্দুল মুকিত রমজান ও তাহুর আহমদ শিব্বির এবং দুই সাক্ষি আজিম উদ্দিন রাজু ও পিন্টুকে আসামি করা হয়। তাছাড়া ওই স্থানে ১৫ শতক জায়গা থাকলেও ইকবাল হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেন একই খতিয়ানের সাইল রকম ভূমি সাড়ে ৭ শতক। অথচ জায়গাটির রকম ভিটভূমি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভূমির মালিক আব্দুল মুকিত রমজানের পূর্ব পুরুষ নুরবক্স ১৯৬১ সালে খরিদা সূত্রে ওই ভূমির মালিক। তারপর ১৯৬৯ সালে উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হন রিয়াজ বক্স। এরপর রিয়াজ বক্সের নাতি হিসেবে আব্দুল মুকিত রমজান মৌরসী স্বত্ত্ব হিসেবে ৮ শতক ভূমির মালিক হন এবং অন্য অংশ ৭ শতকের মালিক তাহুর আহমদ শিব্বির। তাছাড়া গত কয়েক বছর আগে রিয়াজ বক্সের নামে এসি ল্যান্ডের তদন্তের পর ওই ভূমির নামজারি হয়। উক্ত জায়গাতে কাজ করানোর জন্য ইট-বালি ও মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেন ভূমির মূল মালিকদ্বয়। তাদের নিজস্ব সাইনবোর্ড টানানো ভূমিতে ইট-বালি রাখা ছিল। জিডির তদন্তে গিয়ে এর সত্যতাও পান থানার এসআই ইবায়দুল্লাহ। তিনি স্থির ও ভিডিও ধারণ করে নিয়ে আসেন। এরপর একই স্থানে চাঁদাবাজি মামলার সাক্ষিরা ইটের উপর ইট-বালুর উপর আরও মালামাল ফেলে ভিডিওচিত্র ধারণ করে নিয়ে আসে। জিডির দায়েরকারীর আইনজীবীকে সত্যতা প্রমাণের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছিলেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে, পুলিশের বেধে দেওয়া নির্ধারিত ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় কাগজাদি নিয়ে থানায় হাজির হন জিডি দাখিলকারী আব্দুল মুকিত রমজান। তিনি দরখাস্ত আকারে ভূমির দালিলিক তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে চাইলে কিন্তু তাদের কাগজাদি থানায় আমলে নিয়ে ফিরিয়ে দেন। ওই দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছিল, ইকবাল হোসেন ভূমির মালিক কিংবা আইনসম্মত প্রতিনিধি নয়। অথচ তাকেই মামলার বাদি দেখানো হয়েছে। এরপর রাতারাতি ঘটনাটি উল্টে যায়। সাজানো চাঁদাবাজি মামলার প্রেক্ষিতে জমির দুই মালিক যারা ২৬ জানুয়ারি শাহপরান (রহ.)’র থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন তাদেরকে কাগজপত্র দেখানোর কথা বলে শনিবার সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ বিষয়ে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইবায়দুল্লাহ বলেন, জিডির তদন্তে করেছি ঠিকই। তবে মামলার সুবাদে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শাহপরান (র.) থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, আমরা প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতে মামলা নিয়েছি। আরো গভীরে গিয়ে তদন্ত করবো। যদি কেউ জড়িত না থাকে, তাহলে মুক্তি পাবে। বরং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/রাত ৮:২৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit