মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

‘পীরের নিষেধ’ তাই ভোট দিলেন না ১২ হাজার নারী

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৩০ Time View

 

ডেস্ক নিউজ : নারীরা ঘরের বাইরে গেলে পর্দার খেলাপ হবে- এক পীরের এমন ফতোয়ায় ভোটকেন্দ্রে যান না চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা। তাঁদের ধারণা, পীরের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে বাড়ির বাইরে গেলে এলাকায় কলেরা-বসন্ত পুনরায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র নিলেও এ এলাকার নারীরা কখনোই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। এবারের নির্বাচনেও ঘটেনি ব্যাতিক্রম। দুই একজন সচেতন নারী ছাড়া কেউই আসেননি ভোটকেন্দ্রে। কেন্দ্র গুলোতে একজন, দুইজন করে নারী ভোটার ভোট দিয়েছেন। তারাও দিয়েছেন চুপিসারে। তবে পুরুষ ভোটারের লাইন ছিল দীর্ঘ। ভোটগ্রহণে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এমন দৃশ্য দেখে হতবাক। 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চিত্র এটি। প্রায় ১২ হাজারের বেশি নারী ভোটার থাকলেও সেখানে মাত্র কয়েকজন নারী চুপিসারে ভোট দিয়েছেন। পঞ্চম ধাপে চাঁদপুরের ২৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এসময় সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। চরমান্দারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা আব্দুল আউয়াল (৫০) নামে একজন বলেন, ‘নারীদের ভোট দিতে জৈনপুরের হুজুরের নিষেধ আছে। তাই নারীরা ভোট দিতে আসছেন না।’কাউনিয়া শহীদ হাবিবউল্লাহ হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন সাবেক সংসদ সদস্য ড. শামছুল হক ভূঁইয়ার সহধর্মিনী ডা. আনোয়ারা হক। তার মতো আরো কয়েকজন সচেতন নারী ভোট দিলেও প্রার্থীদের নারী এজেন্ট এমনকি নারী প্রার্থীদেরও কেন্দ্রে দেখা মেলেনি। 

গৃদকালিন্দিয়া হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আয়াস উদ্দিন জানান, তার কেন্দ্রে একজন নারী ভোট দিয়েছেন। অথচ এই কেন্দ্রে নারী ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ১১০০। চরমান্দারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার খোরশেদ আলম জানান, এই কেন্দ্রে ৮০০ ভোটারের মধ্যে মাত্র দুজন নারী ভোট দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৯টি কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ১৫-২০ নারী ভোট দেন। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ জানান, জেলার তিনটি উপজেলার ২৮টি ভোট কেন্দ্রগুলো সবকিছু স্বাভাবিক দেখলেও রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে নারীদের ভোট দিতে না দেখে হতবাক হন। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে জেলা প্রশাসকসহ এখানে এসে নারীদের ভোটদানে উদ্ভুদ্ধকরণ সভা করেছি। কিন্তু তাতেও ফল মেলেনি।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ষাটের দশকে ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া বাজারের পূর্ব পাশে বসবাস করতেন জৈনপুরের পীর মওদুদুল হাসান। ওই সময় এলাকায় কলেরা-বসন্ত মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মহামারি থেকে রক্ষা পেতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ সময় পীর মওদুদুল হাসান জানান, নারীদের বেপর্দার কারণেই এ মহামারি। তাই নারীদের কখনোই পর্দার খেলাপ করা যাবে না। এর কিছুদিন পর ভারতের জৈনপুরে চলে যান পীর মওদুদুল হাসান। স্বাধীনতার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সুবিধাবাদীরা তাঁর কথার ওপর রং চড়িয়ে প্রচার করেন, নারীরা ভোট দিলে এলাকায় আবারও কলেরা-বসন্ত ছড়িয়ে পড়বে।

ব্যস, সেই থেকে আজ পর্যন্ত নারীদের ভোট দেওয়া বন্ধ! ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম কাউনিয়া, চর পক্ষিয়া, চর মান্দারি, উত্তর ও দক্ষিণ সাহেবগঞ্জ, সাহেবগঞ্জ, গৃদকালিন্দিয়া, চর মুঘুয়া গ্রামের নারীরা যুগের পর যুগ ধরে নিজ ইচ্ছায়ই ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে মোট ভোটার হচ্ছেন ২৪ হাজার ৪৫৪জন। তারমধ্যে নারী ভোটার রয়েছেন ১২ হাজার ১১৪ জন। আর চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১০ জন নারীসহ শতাধিক প্রার্থী।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৫ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৫:৫৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit