বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ব্রাজিলকে হারানোর সম্ভাবনা খুবই কম দেখছেন হল্যান্ড সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর প্রবাসী আয়ে রেকর্ড, গত অর্থবছরে এসেছে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ১৫ বছরের নথিপত্র চেয়ে গভর্নরকে ফের চিঠি দুদকের ভারতের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জেনারেল ধীরাজ শেঠ নরওয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে ব্রাজিলের জন্য কতটা কঠিন, ভিনিসিউসে রহস্যভেদ হবে? পোষা কুকুরের হামলায় গৃহপরিচারিকাকে ক্ষতিপূরণ ১৫৯ কোটি টাকা! তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা: বিশ্বখ্যাত ৫ এভিয়েশন জায়ান্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুমোদন পেল নতুন তিন উপজেলা ও একটি থানা হাসপাতালে ভর্তি নজরুল ইসলাম খান

প্রযুক্তির যে দিকগুলো ২০২২ সালে ফিনটেকে পরিবর্তন আনবে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৫৩ Time View

 

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : আর্থিক খাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর বিস্তার করোনা মহামারির আগে খুব বেশি ছিল না বললেই চলে। তবে কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে পুরো বিশ্ব যখন লকডাউনে যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অংশীদারদের ব্যাংকিং পরিষেবাগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করতে এবং আরও বেশি মাত্রায় গ্রাহককেন্দ্রিক করে তুলতে জোর চেষ্টা চালায়। নতুন বছরে ফিনটেক খাতে প্রযুক্তি কী কী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে তারই বিস্তারিত লিখেছেন-সাইফ আহমাদ

করোনাভাইরাস মহামারির এ সময়ে অনলাইনের প্রতি মানুষের যে ঝোঁক এবং অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে এর কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটির সংখ্যা বেড়েছে। মূলত ডিজিটাল ব্যাংকিং কার্যক্রম গ্রাহকদের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাকে উন্নত করে। সেই সঙ্গে অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা পেয়ে থাকে গ্রাহকরা।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্কিন নাগরিকদের প্রায় ৬৫ শতাংশই সদ্য বিদায়ি ২০২১ সালে অনলাইন ব্যাংকিংয়ে সেবা নিয়েছে। এতেই অনুমান করা যায় অনলাইন ব্যাংকিং অবশেষে আর্থিক খাতের একটি যুগান্তকারী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

ডিজিটাল ব্যাংকিং অর্থ শুধু পেপারলেস অথবা ক্যাশলেস হওয়া নয়-বরং প্রযুক্তি, এর ভেতরে থাকা প্রথাগত ব্যাংকিংকে আধুনিকায়নে অবদান রেখেছে।

হোয়াইট লেবেল ফিনটেক

হোয়াইট লেবেল ব্যাংকিং ফিনটেক কোম্পানিগুলোকে হোয়াইট লেবেল প্রদানকারীদের পণ্য ব্যবহার করে অনলাইনে আর্থিক পরিষেবা প্রদান করতে সহায়তা করে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এটি আর্থিক খাতের এমন একটি ট্রেন্ড যা কোনোভাবেই মিস করা যাবে না। এটি আসলে এমন এক পরিষেবা যার মাধ্যমে হোয়াইট লেবেল পণ্যগুলো বিক্রি করার আগে আবার ব্র্যান্ডিং করা হয়। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নানা রকম জটিলতা থাকে। হোয়াইট লেবেল ফিনটেক ছোট-বড় যে কোনো ধরনের ব্যবসার জন্য একটি গ্লোবাল পেমেন্ট গেটওয়ে তৈরিতে সাহায্য করে।

এটি সব পক্ষের জন্যই একটি উইন-উইন অবস্থার তৈরি করে, যেখানে রিসেলারের লঞ্চিং খরচও কমে আসে।

ডেটা অ্যাগ্রিগেটর

২০২২ সালে ডেটা অ্যাগ্রিগেটরদের কাজের ক্ষেত্র বড় হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের গ্রাহকদের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে যুক্ত থাকবে ডেটা অ্যাগ্রিগেটর। যেমন, Envestnet Yodlee মূল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিনিয়োগ এবং ক্রেডিট কার্ডসহ একাধিক উৎস থেকে ডেটা পুনরুদ্ধার করে। আশা করা যায়, ফিনটেক কোম্পানিগুলো তাদের নিজস্ব গ্রাহকদের অতিরিক্ত পরিষেবা প্রদানের জন্য এ স্বচ্ছতা ব্যবহার করবে।

ব্লকচেইন প্রযুক্তি

এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ব্লকচেইন প্রযুক্তি ডিজিটাল লেনদেনের জন্য আর্থিক খাতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন। এ প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনা এমনভাবে করা হয় যা একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি, কোম্পানি, সরকার বা ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না। যদিও কোম্পানিগুলো এ অত্যাধুনিক ফিনটেকের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবুও একটি নিরাপদ ডিজিটাল লেজার তৈরির উপায় হিসাবে ব্লকচেইনের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতাকে উপেক্ষা করা যাবে না।

সিজিয়ন পিআর নিউজওয়্যারের প্রতিবেদনে, গ্লোবাল ব্লকচেইন মার্কেটের আকার ২০২০ সালে ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার যার পরিমাণ ২০২৫ সালের মধ্যে ৩৯.৭ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধির আভাস দেওয়া হয়েছে।

রোবটিক প্রসেস অটোমেশন

স্বল্প বিনিয়োগের ব্যবসাকে রোবটিক প্রসেস অটোমেশন আরও ভালো কাজের দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম করে।

আরপিএ সফ্টওয়্যার মূলত মানবসম্পদ মুক্ত করতে এবং রুটিনের সদ্ব্যবহার ও পুনরাবৃত্তি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার উপায় উন্নত করতে রোবট (বট) ব্যবহার করে।

গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের তথ্যমতে, বর্তমানে এ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মূল্য ১.৪০ বিলিয়ন ডলার যা, ২০২৭ নাগাদ ১১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

ভয়েসে লেনদেন

ব্যক্তি এবং ব্যবসার জন্য রুটিন ব্যাংকিং কার্যকলাপগুলো যথাযথ পরিচালনা করার জন্য ভয়েস একটি বিশ্বস্ত উপায় হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করছে এ খাতের বিশেষজ্ঞরা। যখন অনলাইন ব্যাংকিং শুরু হয়েছিল, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে, এটি এতটা দ্রুত বিকশিত হবে। এ প্রযুক্তিতে টাইপ করার চেয়ে কথা বলায় গ্রাহকরা দ্রুত সুবিধা পাবে।

প্রক্রিয়াটি এত উন্নত হবে যে, স্বাভাবিক ভাষা বোঝা এবং স্বাভাবিক ভাষা তৈরি করবে, যার মাধ্যমে গ্রাহকদের এমন শক্তিশালী উপায়ে ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য ভয়েস ব্যবহার করার অনুমতি দেবে। এ কারণে মনে হবে যেন তারা একজন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

বিগ ডাটা

আপনি জেনে হতবাক হবেন যে, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রতি সেকেন্ডে ১.৭ মেগাবাইট ডেটা তৈরি করেছে। ফিনটেক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের অংশীদাররা বিপুল পরিমাণ ডেটা তৈরি করে-যা একত্রীকরণের মাধ্যমে গ্রাহকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা এগ্রিগেটরদের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াবে যাতে তারা গ্রাহক ধরে রাখতে এবং পরিষেবাগুলো উন্নত করতে বিগ ডেটা ব্যবহার করতে পারে। পরিশেষে, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ফিনটেক খাত কোনোভাবেই আগের মতো অবস্থায় থাকবে না বরং প্রযুক্তির নানারকম যোগসাজশে এর ব্যাপক পরিবর্তন এবং সহজীকরণ ঘটবে। বিগত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় ডিজিটাল অর্থনীতি কতটা দ্রুত প্রসারিত হতে পারে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৫ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৩:২৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit