আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে গেলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে সন্দিহান ইরান। একই সঙ্গে যেকোনো আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দিতে তেহরান তাদের সামরিক প্রতিরোধ কৌশলের আওতা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও সম্প্রসারিত করেছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একটি নিরাপত্তা সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওই সূত্রটি জানায়, কাতার ও অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের মনে বিন্দুমাত্র আশাবাদ নেই।
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে পাওয়া একটি বার্তার ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছে তেহরান। বর্তমানে তারা ওই বার্তার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
ইরানের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নীতিগত বিষয়ে ভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার ঘনিষ্ঠরা শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাকে সমর্থনকারী যুদ্ধবাজ চরমপন্থীদের প্ররোচনাতেই সাড়া দিয়ে থাকেন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের অপরাধ বা আগ্রাসন মোকাবিলায় চূড়ান্ত প্রতিরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার ওপর জোর দিচ্ছে ইরান।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার জানিয়েছেন, দেশটির প্রতিরক্ষা নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে কোনো হুমকির জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরান আর নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আটকে থাকবে না। ইরানের ইসনা বার্তা সংস্থাকে তিনি বলেন, কোথা থেকে হুমকি আসছে, তার ওপর ভিত্তি করে পাল্টা আঘাতের স্থান নির্ধারিত হবে না। সামরিক প্রতিরোধের এই পরিধি এখন আঞ্চলিক কাঠামোর বাইরে চলে গেছে। তাই হুমকির উৎস বা স্থান এখন আর ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনো বাধা তৈরি করতে পারবে না।
কিউএনবি/অনিমা/০১ নভেম্বর ২০২৬,/রাত ১১:২৬