আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি ‘ভাঙারি এনামুল’ গ্রেপ্তার
মশিউর রহমান, আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি ।
Update Time :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
৩০
Time View
আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার আশুলিয়ায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এনামুল হক ওরফে ‘ভাঙারি এনামুল’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলাও রয়েছে।
বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব। এরআগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার এনামুল হক জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার তেঘরিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান মন্ডলের ছেলে।
তিনি আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার বেরন এলাকায় বসবাস করতেন এবং ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য পদে দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন গণমাধ্যমকর্মী সোহরাব হোসেন ওরফে সৌরভ। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি এনামুল হক ও তার সহযোগীরা সৌরভের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৭ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার জামগড়া ছয়তলা এলাকায় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
এ সময় তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় সোহরাব হোসেন সৌরভ বাদী হয়ে এনামুল হক, মো. শেখ ওয়াসিম ইকবালসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১৩/২০২৬।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবেও এনামুলের নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও ব্যক্তিগত আইডি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এনামুল হক ছাত্র-জনতা হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও এজাহারভুক্ত আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।