আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো ডিজেল পাঠাতে যাচ্ছে রাশিয়া।
বৃহস্পতিবার একটি ট্যাংকারে করে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক।
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ভেদোমোস্তি এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর রাশিয়া গত ৯ অক্টোবর ডিজেল রফতানির ওপর আরোপ করা নিজেদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। সেই সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া ডিজেল রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
বুধবার নোভাক জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য ডিজেলের চালান প্রস্তুত করা হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজনীয় নথিপত্র চূড়ান্ত করার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে কোন বন্দর থেকে ট্যাংকারটি যাত্রা করবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নোভাককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, প্রথম চালানের পর আরও ডিজেল পাঠানো হবে।
নোভাক বলেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। রাশিয়া নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা পূরণ করবে।
কয়েক ধাপে ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল রফতানি করবে। এর পর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই ১০ লাখ টন ডিজেল পাঠানো হবে।
ট্রাম্পের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব চালান বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। তবে ঘোষিত চালানগুলোর সম্পূর্ণ সরবরাহসূচি এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রফতানি হয়। ফলে রাশিয়ার প্রস্তাবিত সরবরাহের প্রভাব নির্ভর করবে চালানগুলোর বাস্তবায়ন, জ্বালানির চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন দূত
এদিকে, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রফতানি চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ডিজেল রফতানির ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানান উইটকফ। পুতিনও দুই দেশের সমঝোতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার দাবি, চুক্তির পর ডিজেলের দাম কমেছে।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে এই সমঝোতা এমন এক সময়ে হলো, যখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহসংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে। রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে ঘোষিত চালানগুলো সময়মতো পৌঁছানো এবং সরবরাহ অব্যাহত থাকার ওপর।
চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে উঠতে পারে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ধারিত হবে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সহযোগিতার গতিপ্রকৃতির ওপর। সূত্র: রয়টার্স
কিউএনবি/অনিমা/২১ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৩৯