আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ভারতের ঘুরে দাঁড়ানো এবং ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রশংসা করেছেন কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক পলিসির ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া দলের প্রধান এবং অর্থনীতিবিদ কিউংহুন কিম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্বব্যাংকসহ প্রধান অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো চলতি বছর ও আগামী বছর ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দেয়। এটি বিস্ময়কর, তবে ভারতের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে তা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে লকডাউনের কারণে সরবরাহব্যবস্থা চাপে মহামারিকালে ভারতের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এরপর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে ২০২১ সালে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেশটি। পরবর্তী চার বছরও প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে ছিল।
তাঁর মতে, টানা পাঁচ বছর ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বর্তমান ধারা ২০০৩-২০০৭ সালের প্রবৃদ্ধির ধারার সঙ্গে মিলে যায়। ওই সময় ব্রিক (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন) অর্থনীতি দেশগুলোর একটি হিসেবে বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছিল ভারত।
কিমের পূর্বাভাস, ২০৩০ সালের দিকে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জুলাইয়ের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে। প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক গতি, অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা এবং সেবা খাতের শক্তিশালী কার্যক্রমের কারণে এ পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া চলতি বছরের জন্য দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ করে।
কিউএনবি/অনিমা/১৮ অক্টোবর ২০২৬,/দুপুর ১২:১৫