মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন

বৃষ্টির জেরে বিশৃঙ্খলা, সংকীর্ণ রাস্তা ও অন্ধকারে ঘটে গেল ভয়াবহ ট্র্যাজেডি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উৎসবের শহর কলকাতায় আনন্দ আর উদ্দীপনার মাঝে নেমে এলো এক গভীর শোকের ছায়া। উত্তর কলকাতার একটি জনপ্রিয় দুর্গোৎসবের মণ্ডপে তীব্র বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা, অপ্রশস্ত যাতায়াত পথ এবং চরম অন্ধকারে ঘটে গেল এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। অতিরিক্ত ভিড় আর হড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন শিশু ও নারীসহ মোট ১৭ জন মানুষ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

এই ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে মাতম চলছে।

শনিবার সন্ধ্যার দিকে উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার বিখ্যাত চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে এই বিপর্যয় ঘটে। কলকাতা পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ মণ্ডপের ঠিক বাইরের ফটকে এক প্রবল ভিড় ও হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা দ্রুত আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। এর জেরে মণ্ডপের সরু প্রবেশ ও প্রস্থান পথে জনস্রোত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ধ্যার সেই ভয়াবহ মুহূর্তে গোটা এলাকা ছিল সম্পূর্ণ অন্ধকারে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় এবং যাতায়াতের রাস্তা অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এক শোকস্তব্ধ ব্যক্তি, যার পরিবারের কন্যা ও নাতনি এই দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে প্রবেশ ও প্রস্থান—উভয় পথই ছিল অত্যন্ত অপ্রশস্ত। তার ওপর আলোর কোনো নামগন্ধ ছিল না। বৃষ্টির কারণে সবাই যখন হুড়মুড়িয়ে ভেতরে ঢুকতে বা বাইরে বের হতে যাচ্ছিলেন, তখনই অন্ধকারের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং বহু মানুষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পড়ে যাওয়া লোকজনের ওপর দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত জনস্রোত চলে যাওয়ায় এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সেই সংকটময় মুহূর্তে পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী কিংবা স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ এবং একাধিক অ্যাম্বুলেন্স। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে প্রায় ৩৫ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে ওই পূজামণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে আয়োজকদের একটি ঘোষণারও ভূমিকা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার জন্য পূজা কমিটির একটি আকস্মিক ঘোষণাকে দায়ী করেন, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়ি তৈরি করেছিল। 

অন্যদিকে, এ ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন।

এই চরম ট্র্যাজেডিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। 

পূর্বনির্ধারিত সব কর্মসূচি বাতিল করে রবিবার আহতদের দেখতে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দেবীপক্ষের সূচনার আনন্দ বিষাদে পরিণত হওয়ায় এই মুহূর্তে গোটা পশ্চিমবঙ্গে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সূত্র: এনডিটিভি

কিউএনবি/অনিমা/১৮ অক্টোবর ২০২৬,/সকাল ১১:৪৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit