বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর গবেষণা-উদ্ভাবন মেলা আয়োজনের উদ্যোগ ঢাবি থেকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সকল তথ্য-উপাত্ত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কাছে হস্তান্তর পেশাদার গণমাধ্যম কার্যক্রম এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ জোরদারে ঢাবি ও ঢাকা ডক্ল্যাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক শাই হোপের সেঞ্চুরিতে উইন্ডিজের রেকর্ড আটোয়ারীতে আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী কুড়িগ্রামে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু,বাবা গুরুতর আহত আটোয়ারীতে হাজী সাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত আদালতের নির্দেশে জাল দলিলের প্রতিবেদন দিয়ে আক্রোশের শিকার সাব-রেজিস্ট্রার নেত্রকোণায় বিএনপি নেতা খলিলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

রাশিয়া, ইরান ও এআই থেকে যুক্তরাজ্যে হুমকি বাড়ছে: ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধান

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া, ইরান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের কারণে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর হুমকি ক্রমেই বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫-এর প্রধান স্যার কেন ম্যাককালাম। 

তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় হুমকি মোকাবিলায় এখন শীতল যুদ্ধের সময়ের চেয়েও বেশি সম্পদ ব্যয় করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে রাশিয়াকে যুক্তরাজ্যের জন্য ‘এক নম্বর আগ্রাসী শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার লন্ডনে এমআই৫-এর সদর দফতরে দেওয়া বার্ষিক ভাষণে ম্যাককালাম বলেন, গত এক দশকে বিদেশি প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আসা হুমকি চার গুণ বেড়েছে। ফলে সন্ত্রাসবাদ এবং বিদেশি রাষ্ট্রের হুমকি মোকাবিলায় সংস্থাটির কার্যক্রম এখন প্রায় সমান গুরুত্ব ও পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশ যুক্তরাজ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ধরনের গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, উগ্র ডানপন্থী সন্ত্রাসবাদের বিস্তার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এআইয়ের ব্যবহার নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এআই ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা নজরদারি ও হামলার কৌশল উন্নত করার চেষ্টা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এমনকি ড্রোনের সঙ্গে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করে হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও শনাক্ত করেছে এমআই৫। ভবিষ্যতে এআই ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরির ঝুঁকিকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হুমকিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন গোয়েন্দাপ্রধান।

রাশিয়া ‘এক নম্বর আগ্রাসী শক্তি’
ম্যাককালামের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় হুমকি। মস্কো সরাসরি ন্যাটোর সঙ্গে প্রচলিত যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি এড়িয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে।

তিনি বলেন, রাশিয়া এমন এক ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে গোপন অভিযান, নাশকতা, বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীকে কাজে লাগানো এবং প্রতিপক্ষের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা।

তবে রাশিয়া রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ন্যাটোর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রচলিত সামরিক সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত রয়েছে। ম্যাককালামের মতে, ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে- এমন সীমা অতিক্রম করার ব্যাপারে মস্কো সতর্ক।

তিনি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনে দেশটির অগ্রগতি অত্যন্ত সীমিত এবং এর মূল্য ভয়াবহ। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের অন্যান্য দেশকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে রাশিয়া চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।

এমআই৫ প্রধানের মতে, যুক্তরাজ্য থেকে রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের কারণে মস্কোর প্রচলিত গোপন গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর ফলে রাশিয়া এখন বিভিন্ন অপরাধীকে অর্থ দিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

ম্যাককালাম বলেন, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে প্রায় এক হাজার রুশ কূটনীতিক ও গোয়েন্দা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বহিষ্কারের ফলে ক্রেমলিনের প্রচলিত গোপন তৎপরতার সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “তাই আমরা দেখছি, তারা নিজেদের কাজ করিয়ে নিতে অপরাধীদের অর্থ দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে।”

ম্যাককালামের ভাষায়, “এগুলো এমন কোনও পরাশক্তির কর্মকাণ্ড নয়, যার হাতে কৌশলগত সুবিধা রয়েছে।”

ইরানের তৎপরতায় এক বছরে ৫০ জন গ্রেফতার
যুক্তরাজ্যে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপন তৎপরতাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন এমআই৫ প্রধান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ইরান-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ম্যাককালাম বলেন, ইরানের এসব তৎপরতার বড় একটি অংশের লক্ষ্য যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়। তবে সামরিক স্থাপনার মতো আরও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত লক্ষ্যবস্তুও এসব কর্মকাণ্ডের আওতায় এসেছে।

যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ডে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ঘাঁটিকে ঘিরে কথিত নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এর আগে দাবি করেছিলেন, ওই পরিকল্পনা ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরিচালনা করেছিল।

ম্যাককালাম বলেন, “আমি এটুকু বলতে পারি, যারা ব্রিটেনের রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়- তারা এখানে ভাড়া করা গুন্ডা হোক কিংবা বিদেশে বসে তাদের অর্থ জোগানো ব্যক্তিরা হোক- তাদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস ছাড়াই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যুক্তরাজ্যে বিদেশি রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত কথিত নাশকতা ও সহিংস কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হবে।

চীন, রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ
বিদেশি শক্তির হয়ে যুক্তরাজ্যের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০২৩ সালে প্রণীত জাতীয় নিরাপত্তা আইন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ম্যাককালাম।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীন, রাশিয়া ও ইরান থেকে আসা হুমকি মোকাবিলায় এই আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে।

আইনটি বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে কাজ করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।

তবে ম্যাককালামের বক্তব্যে স্পষ্ট, যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তাঝুঁকি এখন শুধু প্রচলিত গোয়েন্দা তৎপরতা বা সামরিক হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধী নেটওয়ার্ক, গোপন অভিযান এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারও নিরাপত্তা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

এআই দিয়ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সন্ত্রাসীরা
ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেছেন, এআই ইতোমধ্যে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হামলাকারী ও প্রতিরক্ষাকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ধরন বদলে দিচ্ছে।

তার মতে, এআই ব্যবহার করে ব্যক্তিবিশেষকে লক্ষ্য করে প্রচারণা এবং উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করার উপযোগী উপকরণ তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আরও কার্যকরভাবে মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে।

তিনি বলেন, “এআই ইতোমধ্যেই সাইবার নিরাপত্তায় আক্রমণকারী ও প্রতিরক্ষাকারীদের মধ্যকার প্রতিযোগিতাকে বহুগুণ তীব্র করে তুলছে।”

এমআই৫ প্রধান আরও জানান, এআই ব্যবহার করে নিজেদের নজরদারি ও হামলার পদ্ধতি উন্নত করার চেষ্টা করা সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করেছে তার সংস্থা। এআই-সক্ষম ড্রোনের ব্যবহার এ ধরনের হুমকিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং হামলার পরিকল্পনা তৈরি করা সহজ হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা ঠিক কী ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সে বিষয়ে ম্যাককালাম বিস্তারিত তথ্য দেননি।

এআই দিয়ে জৈব অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি সবচেয়ে উদ্বেগজনক
এমআই৫ প্রধানের মতে, ভবিষ্যতে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো এআই ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করতে পারে। থেমস হাউসে দেওয়া ভাষণে তিনি এই ঝুঁকিকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এ ধরনের হুমকি এখনও বাস্তবে রূপ নেয়নি। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বিদ্যমান জৈব অস্ত্রের ঝুঁকি যেমন বাড়তে পারে, তেমনি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের জৈব অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

ম্যাককালাম বলেন, “এই ঝুঁকিগুলো বাস্তব। যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা- এমআই৫, জিসিএইচকিউ ও এমআই৬- এসব মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে সুনাম অর্জনকারী যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।”

এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মানব ইতিহাসে মানুষের চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান কোনও সত্তার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা নেই।

তার ভাষায়, “সবচেয়ে সহজভাবে বললে, মানব ইতিহাসে আমাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান কোনও পক্ষের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা নেই।”

এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি এমন উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করেন, যেগুলোর সক্ষমতা মানুষের প্রচলিত মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এআইয়ের হুমকি মূল্যায়নে নতুন কেন্দ্র
এআইয়ের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য এমআই৫ একটি নতুন ‘এআই থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট সেন্টার’ চালু করেছে বলে জানিয়েছেন ম্যাককালাম।

কেন্দ্রটির কাজ হবে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এআইয়ের সম্ভাব্য হুমকি বিশ্লেষণ করা এবং বাস্তব ঝুঁকির সঙ্গে অতিরঞ্জিত দাবি বা ভিত্তিহীন আশঙ্কার পার্থক্য নির্ধারণ করা।

ম্যাককালামের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নিয়মিত নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। প্রযুক্তিটি যেমন প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে, তেমনি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতেও নতুন সক্ষমতা তুলে দিতে পারে।

নতুন কেন্দ্রটির মাধ্যমে এআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতিকর ব্যবহার শনাক্ত করা, ঝুঁকি মূল্যায়ন করা এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উগ্র ডানপন্থী সন্ত্রাসবাদও বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা বাড়ার পেছনে শুধু আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী নয়, উগ্র ডানপন্থী সন্ত্রাসবাদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন এমআই৫ প্রধান।

চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদী হুমকির মাত্রা পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ‘সিভিয়ার’ বা গুরুতর পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। এই মাত্রার অর্থ হলো, দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলা হওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি।

ম্যাককালাম বলেন, আল-কায়েদা এবং তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের মতো ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী এখনও হামলার নির্দেশ দিচ্ছে এবং সমর্থকদের হামলায় উদ্বুদ্ধ করছে। তবে হুমকির মাত্রা বাড়ার পেছনে উগ্র ডানপন্থী সন্ত্রাসবাদেরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, “গত এক বছরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবণতা হলো, অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিরোধী ক্ষোভের উগ্র রূপগুলো ক্রমেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিপ্রায়ে রূপ নিচ্ছে।”

তার মতে, উগ্র ডানপন্থী সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বয়স তুলনামূলক কম হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। ইন্টারনেট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে ম্যাককালাম জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এমআই৫ যুক্তরাজ্যে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে নিয়ে তদন্ত করেছে।

তিনি বলেন, “ওই তদন্ত থেকে পাওয়া তথ্য আমাদের একটি আন্তর্জাতিক অংশীদারকে তাদের দেশে প্রাণঘাতী হামলা প্রতিরোধে সহায়তা করেছে।”

ঘটনাটি অনলাইন উগ্রপন্থার আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং অল্প বয়সীদের মধ্যে চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিকে সামনে এনেছে।

বহুমুখী হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা
ম্যাককালামের বক্তব্যে উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন একাধিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে। রাশিয়ার হাইব্রিড যুদ্ধ, ইরান-সংশ্লিষ্ট গোপন তৎপরতা, ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলার নির্দেশনা, উগ্র ডানপন্থী সন্ত্রাসবাদ এবং এআইয়ের অপব্যবহার- সবকিছুই গোয়েন্দা সংস্থাটির কাজের পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত এক দশকে বিদেশি প্রতিপক্ষের হুমকি চার গুণ বেড়ে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রচলিত ধারণা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন শুধু সামরিক শক্তি বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ নয়, ডিজিটাল প্রযুক্তি, অনলাইন প্রচারণা এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের ব্যবহারও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

এ পরিস্থিতিতে এমআই৫-এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা ও এআই নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

কিউএনবি/অনিমা/১৪ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৪:১১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit