আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী যতদিন অধিবেশনে থাকবেন, ততদিন বিধানসভার অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন না ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র (এজেইউপি) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।
তার অভিমত, ‘যখন বিধানসভার অধিবেশন চলবে তখন আমি অধিবেশনে যাব। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হাউসে থাকলে সেদিন যাব না। আমার জন্য বরাদ্দ ৮৮ নম্বর আসনে, আমি লবিতে বসবো’।
মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর বিধানসভার আসনে উপ নির্বাচনে নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করার অভিযোগে হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১২ ঘণ্টা রিমান্ডে রাখার পর অবশেষে বুধবার দুপুরে ছাড়া পান তিনি। এরপর বিকালে দিকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন হুমায়ুন।
তিনি বলেন, আমি বিধানসভার অধিবেশনকে বয়কট করছি। আমার জন্য বিধানসভার স্পিকার যে ৮৮ নম্বর আসনটি বরাদ্দ রেখেছেন, আমার অনুপস্থিতিতে সেটি খালি থাকবে। পাশাপাশি আমি বিজনেস এডভাইজারি কমিটির সদস্য হিসেবে আগামীতে বৈঠকে যাবো না। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকেও যাব না। আগামী দিনে বিধানসভার যে সমস্ত কর্মসূচি আছে তাতেও অংশ নেব না’।
এর কারণ হিসেবে এজেইউপি বিধায়ক জানান, ‘একজন মিথ্যাচার মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশ মন্ত্রী- যারা পুলিশের ক্ষমতায় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের টুঁটি চেপে ধরে, পুলিশ দিয়ে যেভাবে ভোট লুট করেছে, পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে রেজিনগরের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, এর প্রতিবাদ করতেই আমি আগামী দিনে বিধানসভায় যাব না’।
একজন সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা যেভাবে তাকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলেছেন, তাতে যথেষ্ট অপমানিত বোধ করেছেন দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ হুমায়ুন। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন তিনি বলেন, ‘আমি অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করে বেঁচে থাকতে পারবো না। কিন্তু কালকে যেটা হয়েছে সেটা কি গণতন্ত্র? পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর আমার গায়ে হাত তুলেছে। এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। এভাবে বিধায়ক পদে না থেকে মরে যাওয়া অনেক ভালো’।
এদিন গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে বলতেই একসময় কেঁদে ফেলতেও দেখা যায় তাকে। নিজের বিরুদ্ধে যে ভোট লুটের অভিযোগে এসেছে তা নিয়ে হুমায়ুন বলেন, ‘আমরা সবাই দেখেছেন, আমি আমার নিজের দলীয় কার্যালয়ে বসেছিলাম। এখান থেকে আমাকে পুলিশ বলপূর্বক ধরে নিয়ে গেল। এই গণতন্ত্রকে আমি কোনভাবেই সমর্থন করতে পারছি না। এটা ব্রিটিশের শাসনব্যবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে এই পুলিশ মন্ত্রীর সামনাসামনি আমি হব না। আমি এই পুলিশ মন্ত্রী থেকে এক শত কিলোমিটার দূরে থাকবো।’
যদিও, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেন নি নওদা আসনের এই বিধায়ক। বিধানসভার সদস্যপদ থেকেও আপাতত পদত্যাগ করছেন না। এ নিয়ে তার অভিমত, ‘পুজা মৌসুমের পরে নওদার মানুষের সাথে বৈঠকে বসে সেখানেই আমি ক্ষমা চেয়ে নেব। সেক্ষেত্রে নওদার অধিকাংশ মানুষই যদি চান তবে ওই আসন থেকে বিধায়ক হিসেবে পদত্যাগ করতে পারি’।
শুভেন্দু অধিকারীকে একজন মিথ্যাবাদী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আখ্যায়িত করে হুমায়ুন বলেন, ‘আমি কিছু আশা করছি না, কিন্তু আমি প্রত্যাশা রাখবো যে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় রেজিনগর’কে মডেল বিধানসভা হিসেবে বানানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন তা যেন তিনি পালন করেন। রাজ্যের উন্নয়ন থেকে রেজিনগর যাতে বঞ্চিত না হয়’।
কিউএনবি/অনিমা/০৮ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৫:৫১