দুই বাংলাদেশি পেসারের দারুণ বোলিংয়ের পরও অবশ্য ডার্বিশায়ারকে পুরোপুরি গুটিয়ে দেওয়া যায়নি। মার্টিন অ্যান্ডারসনের অপরাজিত ১২৯ রানের ইনিংসে ভর করে স্বাগতিকরা শেষ পর্যন্ত ৩০০ রান সংগ্রহ করে। তবে শুরুতেই হাসানের আঘাতে বড় চাপে পড়ে যায় ডার্বিশায়ার।
মাত্র কয়েক মাস আগেও ইংলিশ কাউন্টিতে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের উপস্থিতি ছিল না। গত জুনে কেন্টের হয়ে কাউন্টিতে অভিষেক হয় হাসান মাহমুদের। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় ডারউইন টেস্টে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেও কাউন্টির অভিজ্ঞতার প্রভাব দেখা গেছে। সেই ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন হাসান।
কাউন্টিতে হাসানের পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া। ডিউক বলে ইংল্যান্ডের সিম ও সুইং সহায়ক কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে ব্যাটসম্যানদের নিয়মিত সমস্যায় ফেলছেন তিনি। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মাত্র তিন ম্যাচেই তাঁর শিকার ছিল ১৯ উইকেট।
হাসানের সাফল্যের পর এবার কাউন্টিতে সুযোগ পেয়েছেন খালেদ আহমেদও। চোটের কারণে শরীফুল ইসলামকে অনাপত্তিপত্র না দেওয়ায় সুযোগটি আসে খালেদের সামনে। আর কাউন্টি অভিষেকেই বল হাতে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরের মতে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশন বাংলাদেশের পেসারদের জন্য দারুণ কার্যকর হতে পারে। ডিউক বলে দীর্ঘ সময় সুইং পাওয়া এবং সিম মুভমেন্ট কাজে লাগানোর সুযোগ থাকায় হাসান ও খালেদের মতো বোলাররা এখান থেকে অনেক কিছু শিখতে পারেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার মধ্যেও ঐতিহ্য ও দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের সংস্কৃতির কারণে ইংলিশ কাউন্টির আলাদা মর্যাদা রয়েছে। সেই মঞ্চে এবার একই দলের হয়ে বাংলাদেশের দুই পেসারের উপস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
হাসান–খালেদের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারই নয়, বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের জন্যও কাউন্টি ক্রিকেট হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ এক শিক্ষাক্ষেত্র।