আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অব্যাহত বসতি সম্প্রসারণকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও সম্পূর্ণ বেআইনি বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ২৭টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত এই শীর্ষ জোটটির সব সদস্য রাষ্ট্রই একমত হয়ে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নতুন বসতি স্থাপনের পদক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বমঞ্চের ১২টি দেশ পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের যৌথ প্রস্তাব দেওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এই ঘোষণা এলো।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কায়া কাল্লাস জোটের এমন অভিন্ন অবস্থানের কথা প্রকাশ করেন। তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের ক্রমাগত বসতি সম্প্রসারণের আগ্রাসী নীতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান’ অর্জনের সব সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎকে মারাত্মকভাবে ধ্বংস করছে। ইসরায়েলের এই একপেশে ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পরিবেশ বিনির্মাণে বড় বাধা তৈরি করছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
চলমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ইইউর এই শীর্ষ কূটনীতিক জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে গাজা এবং পশ্চিম তীরে সবচেয়ে বেশি মানবিক সাহায্য ও ত্রাণসহায়তা প্রদানকারী একক সংস্থা হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছে। ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ইইউর মানবিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা বহাল থাকবে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সংঘাত নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যনীতির চূড়ান্ত রূপরেখা তুলে ধরে কায়া কাল্লাস জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি দীর্ঘস্থায়ী, ন্যায়সংগত ও সামগ্রিক শান্তির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর এই কাঙ্ক্ষিত শান্তি কেবল তখনই সম্ভব, যখন দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে নিরাপদ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার মধ্যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
সূত্র: আল জাজিরা