মশিউর রহমান, সাভার : ঢাকার আশুলিয়ায় মোবাইল গেমস খেলাকে কেন্দ্র করে দুই কিশোরকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের লালপাহাড় এলাকায় আতিকের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো মুত্তাকিন (১৪) ও মজিদুল ইসলাম (১৩)। মুত্তাকিন রংপুর জেলার কোতয়ালী থানার সিলমন গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। মজিদুল একই জেলার গঙ্গাচড়া থানার জয়দেব পূর্বপাড়া গ্রামের শাহাজানের ছেলে। তারা লালপাহাড় এলাকায় ভাড়া থেকে আশুলিয়ার জিরাবো পুকুরপাড় এলাকার একটি কার্টুন কারখানায় কাজ করতো।
আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় জাহাঙ্গীরের ছেলে জীম ও তার ভাগিনা ছোয়াত প্রথমে দুই কিশোরকে মারধর করে। পরে মারধরের হাত থেকে বাঁচতে তারা আতিকের চায়ের দোকানে আশ্রয় নেয়। সেখানে অভিযুক্তরা ঢুকে তাদের ছুরিকাঘাত করে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হয় এবং তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান স্বজনরা। এছাড়াও জয়নাল বয়াতির এ দুই নাতির বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলে তারা জানান।
আহত মুত্তাকিনের বাবা মতিয়ার জানান, রাইচ মিলের মালিক শামীমের দোকানের সামনে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথামে আমার ছেলে ও নাতিকে মারধর করে। এরপরে আতিকের দোকানের সামনে আসলে। সেখানেও মারধর করে। পরে দোকানদার আমার ছেলে ও নাতিকে দোকানের ভিতরে আশ্রয় দেয়। এরপরে ছোয়াত ও জীম দোকানের মধ্যে ঢুকে চাকু দিয়ে পার দেয়। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেলে পাঠাই। এবিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
চায়ের দোকানদার আতিক বলেন, মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে তিনি দুই কিশোরকে দোকানের ভেতরে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে অভিযুক্তরা জোর করে দোকানে ঢুকে তাদের ছুরিকাঘাত করে বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার সময় সেখানে থাকা সেলুন ব্যবসায়ী আদিত্য চন্দ্র শীল বলেন, তিনি চা খেতে আতিকের দোকানে গিয়েছিলেন। পরে নিজের দোকানে লোকজন জড়ো হওয়ার কথা শুনে সেখানে ফিরে যান। গিয়ে জানতে পারেন, গেমস খেলা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। এর পর কী ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।
তবে অভিযুক্ত জীমের দাদা জয়নাল বয়াতির দাবি, গেমস খেলা নয়, বসাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরে তার নাতিরা দোকানের চামচ দিয়ে আঘাত করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল আলম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় উঠতি বয়সী কয়েকজনের বসাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।