আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে বিপজ্জনক বলে সমালোচনা করছেন মার্কিন সাংবাদিক ও উপস্থাপক টাকার কার্লসন।
ইরানের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের সময় ট্রাম্প এর আগেও কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। এক পর্যায়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে বড় ধরণের ধ্বংসের আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। তবে পরে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরণের অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ কোনো দেশ যদি এমন হুমকিকে বাস্তব সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করা শুরু করে,তাহলে তারা নিজের সামরিক ও প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
ইরানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও তেহরানের দীর্ঘদিন ধরে দেখিয়ে আসছে, সামরিক চাপের মুখে তারা সহজে নতি স্বীকার করে না। ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো সামরিক অভিযানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে পারমাণবিক হুমকি নিয়ে কার্লসনের বক্তব্যকে শুধু ট্রাম্পবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখছেন না অনেকে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক শক্তি ব্যবহার সীমা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বির্তক শুরু হয়েছে।
পরমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা যদি নিয়মিত রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হয়ে উঠে, তাহলে ‘হুমকি’ ও বাস্তবে ব্যবহারের প্রস্তুতি’র-মধ্যকার সীমারেখা আরো অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু ইরান যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: মেহের নিউজ
কিউএনবি/আয়শা/০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১০:১৮