রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

বিডব্লিউসিসিআই’র ইবিটি কার্যক্রমে ৪৬ হাজারের বেশি নারীর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এ্যাসেট প্রকল্পের এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই)।

আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বিডব্লিউসিসিআই’র আওতায় ১ হাজার ৯৩৯টি ব্যাচে ৪৬ হাজার ৫৩৬ জন নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রতি ব্যাচে ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ অর্জন শতভাগ।

ইবিটি কার্যক্রম অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ডুয়াল-মোড ট্রেনিং প্রোগ্রাম (এডিটিপি), টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্কিলস ট্রেনিং প্রোগ্রাম (টিএসটিপি) এবং স্পেশালাইজড আপস্কিলিং ট্রেনিং প্রোগ্রাম (এসইউটিপি)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সাইকেলে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

দক্ষতা মূল্যায়নে ৩০ হাজারের বেশি

প্রশিক্ষণের পর অর্জিত দক্ষতা যাচাইয়ে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার ১৮৮ জন প্রশিক্ষণার্থী কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্টে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৯২১ জন কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছেন। অ্যাসেসমেন্টে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কম্পিটেন্সি অর্জনের হার প্রায় ৬৬ শতাংশ।

তবে বিভিন্ন সাইকেলের প্রশিক্ষণ ও অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম চলমান থাকায় এ হারকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। ইবিটি কার্যক্রমে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে—এনরোলমেন্ট, ট্রেনিং, অ্যাসেসমেন্ট, কম্পিটেন্সি ও এমপ্লয়মেন্ট—এই ধারায়।

কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানে ১১,৮৪৮ নারী

বিডব্লিউসিসিআই’র আওতায় এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৮৪৮ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান অথবা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য রেকর্ড হয়েছে। কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়িত প্রশিক্ষণার্থীদের তুলনায় এ হার প্রায় ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে বিভিন্ন সাইকেলের প্রশিক্ষণার্থী এখনো অ্যাসেসমেন্ট ও প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থান ট্র্যাকিংয়ে থাকায় এ সংখ্যাও চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী সময়ে তথ্য আরও হালনাগাদ হবে।

কর্মসংস্থান বলতে শুধু চাকরি নয়; আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, বাড়িভিত্তিক ব্যবসা ও আয়মূলক সেবাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। টেইলারিং ও ড্রেস মেকিং, ফ্যাশন ডিজাইন প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড স্টিচিং, ব্লক-বাটিক ও স্ক্রিন প্রিন্টিং, বিউটিফিকেশন, কেয়ারগিভিং, আইসিটি-ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মতো দক্ষতায় নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এডিটিপিতে সবচেয়ে বেশি প্রশিক্ষণার্থী

হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এডিটিপির আওতায় ১ হাজার ৫৪৫টি ব্যাচে ৩৭ হাজার ৮০ জন, টিএসটিপিতে ২৫৮টি ব্যাচে ৬ হাজার ১৯২ জন এবং এসইউটিপিতে ১৩৬টি ব্যাচে ৩ হাজার ২৬৪ জন নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও কর্মক্ষেত্রসংযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব কাজের পরিবেশে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরাও প্রশিক্ষণে

বিডব্লিউসিসিআই’র আওতায় ১৪ জন প্রতিবন্ধী এবং ২৬৩ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী প্রশিক্ষণার্থী রয়েছেন। এ্যাসেটে অংশ নিয়েছেন ৮ জন প্রতিবন্ধী ও ১৬১ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য।

কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছেন ১৩ জন প্রতিবন্ধী এবং ৯৪ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী। কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে ৮ জন প্রতিবন্ধী ও ৭৩ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীর।

ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ

এ্যাসেট প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদের জন্য এনএসডিএ কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফিউচার অব ওয়ার্ক তালিকায় নারীদের জন্য প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং, ব্লক-বাটিক অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং, হ্যান্ড স্টিচিং অ্যান্ড এমব্রয়ডারি, টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কেয়ারগিভিং, বয়স্কদের কেয়ারগিভিং, ফ্যাশন ডিজাইন প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও মডেলিং, মাইক্রোফাইন্যান্স অপারেশনস, ফুড প্রোডাকশন অ্যান্ড বেভারেজ এবং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্টের মতো অকুপেশন রয়েছে।

এনএসডিএ সিএস-সমন্বিত তালিকায় টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং লেভেল-৩ ও লেভেল-৪ এবং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট লেভেল-৪-ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিডব্লিউসিসিআই’র বক্তব্য

বিডব্লিউসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, ‘নারীদের জন্য দক্ষতা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বাজার সংযোগ, স্বল্প সুদে ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা করতে পারলে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও উদ্যোক্তারা অবদান রাখতে পারবেন। এ্যাসেট-বিডব্লিউসিসিআই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামীতে দেশের বাইরে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির পথ আরও প্রসারিত হবে বলে আমরা মনে করছি।’

এ্যাসেট-বিডব্লিউসিসিআই প্রকল্পের ডেপুটি সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার সুমন্ত কুমার মহন্ত বলেন, ‘এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ৪৬ হাজারের বেশি নারীকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পারা গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়; নারীরা যাতে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে চাকরি, আত্মকর্মসংস্থান কিংবা নিজস্ব ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেন, সেটিই মূল লক্ষ্য।’

বর্তমানে বিডব্লিউসিআই’র অগ্রাধিকার হচ্ছে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের দ্রুত অ্যাসেসমেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা, কম্পিটেন্সির হার বাড়ানো, কম্পিটেন্ট নারীদের চাকরি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং নারী উদ্যোক্তাদের বাজার ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১০:২৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit