সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনুমোদন না নিয়ে গাছ কাটার অভিযোগ
Reporter Name
Update Time :
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
৩১
Time View
আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার আশুলিয়ায় কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গিয়ে উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন না নিয়ে ঐতিহ্যবাহী দুটি কাঁঠালগাছসহ ছোট-বড় আরও অন্তত ১০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে আশুলিয়ার দোসাইদ অধন্য কুমার স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখায় গিয়ে গাছ কাটার বিষয়টি দেখা যায়। সম্প্রতি কলেজ মাঠের পশ্চিম পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় এসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ থেকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। এর ভেতরে একটি শহীদ মিনার নির্মাণের কাজও চলমান।
এ কাজের জন্য সেখানে থাকা ষাটোর্ধ্ব বয়সী দুটি কাঁঠালগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি ছোট-বড় আরও অন্তত ১০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই স্থানে বালু ভরাট করা হয়েছে। কলেজের বারান্দায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতে দেখা যায়। কাটা একটি কাঁঠালগাছের কাঠ দিয়ে কলেজের জন্য টেবিল-চেয়ারসহ আসবাবপত্র তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বাকি কাঠের বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক বরাদ্দ থেকে দোসাইদ অধন্য কুমার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে নির্মাণ কাজের স্থানে টাঙানো ব্যানারে বরাদ্দের পরিমাণ ৪০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনুমোদন ও নিয়মনীতি না মেনে বিভিন্ন কাজ করছেন। তাঁদের অভিযোগ, সীমানা প্রাচীরসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ ঠিকাদার ছাড়াই করা হচ্ছে। সম্প্রতি কলেজের ঐতিহ্যবাহী দুটি কাঁঠালগাছ কেটে ফেলার বিষয়েও তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দোসাইদ অধন্য কুমার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও নিচু জায়গায় বালু ভরাটসহ পুরো কাজ শেষ করতে প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য এখনো কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়নি। পিআইও কার্যালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া ৪ লাখ টাকার কাজ শেষ হওয়ার পর বাকি কাজের জন্য টেন্ডার দেওয়া হবে। গাছ কাটার বিষয়ে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, দুটি কাঁঠালগাছ কাটা হয়েছে। সেগুলো বিক্রি করা হয়নি; কলেজের ল্যাবের জন্য আসবাবপত্র তৈরি করা হচ্ছে। কোনো গাছ বিক্রি করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যাচাই করে যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।