বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম

যুদ্ধের অবসানে ইরানকে আলোচনায় ফেরানোর চেষ্টায় আসিম মুনির

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার একদিনের সফরে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। 

বিশ্লেষকদের মতে, মুনিরের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসতে রাজি করানো। কারণ ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যুদ্ধের অবসানের ইঙ্গিত দিলেও দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর। মুনিরের সফরের আগে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, ইরান এখন শক্তিশালী অবস্থানে থাকতেই যুদ্ধ শেষ করতে চায়। বিপরীতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ভুল পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

এ কারণে মুনিরের বৈঠকগুলোর মধ্যে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব ও সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রেজাইকে ইরানের সামরিক বাহিনী ও সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে দেখা হয়। মুনিরের সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর নতুন করে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আবারও সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুনিরের সফরে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সফরটিকে ‘খুবই ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এখনো বড় কোনো নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাসের কথা জানিয়ে তাদের আচরণ পরিবর্তনের দাবি করেছেন। পেজেশকিয়ানও ওয়াশিংটনকে হুমকি ও শক্তির বদলে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতার বিশেষ সুবিধা হলো মুনির একজন রাজনীতিক নন, বরং সামরিক কর্মকর্তা। একই সঙ্গে তিনি ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের কোনো সমঝোতা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয় কি না। ফলে ইরানি জেনারেলদের যুদ্ধের ময়দান থেকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে মুনিরই এখন সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

সূত্র: আলজাজিরা

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৫ অগাস্ট ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:২২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit