রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

ইরানকে ফাঁকি দিয়ে তেল রফতানির নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে বিশ্বের তেল সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদক দেশগুলো নতুন কৌশলে সেই সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল কোম্পানিগুলো এখন জাহাজের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে রাতের আঁধারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পাহারায় হরমুজ প্রণালি পার করে তেল সরিয়ে নিচ্ছে।

এই কৌশলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সরাসরি ইরানি হামলার ঝুঁকি না নিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগরে পৌঁছাচ্ছে। সেখানে অপেক্ষমাণ ক্রেতাদের ট্যাংকারে তেল স্থানান্তর করে দেওয়া হচ্ছে। এরপর খালি জাহাজগুলো আবার হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে ফিরে যাচ্ছে।

তেল পরিবহনের এই গোপন বা ‘ডার্ক ট্রানজিট’ ব্যবস্থা একদিকে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে পড়া ঠেকাতে সাময়িকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে হরমুজ পার
এই কৌশলের একটি উদাহরণ গ্রিক মালিকানাধীন বিশাল তেলবাহী জাহাজ ‘কিকু’। গত ২৫ জুলাই কাতারের মেসাইদ তেল রফতানি টার্মিনালে নোঙর করে জাহাজটি। দোহার প্রায় ২৫ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত বিশাল এই বন্দরে ৩০টি জাহাজ নোঙরের ব্যবস্থা রয়েছে।

চার দিন পর অপরিশোধিত তেল নিয়ে কিকু হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। এক হাজার ফুটেরও বেশি দীর্ঘ ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) শ্রেণির এই জাহাজ ঘণ্টায় প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলছিল।

কিন্তু ৩১ জুলাই দুপুর ২টার কিছু পর দুবাই উপকূলের কাছে হঠাৎ জাহাজটির সংকেত অদৃশ্য হয়ে যায়।

কিকুর এআইএস- অর্থাৎ অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম- ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই যন্ত্র সাধারণত জাহাজের পরিচয়, গতি, গতিপথ ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সম্প্রচার করে। ফলে বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ট্র্যাকিং সেবাগুলোর কাছে কিকু যেন হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে যায়।

পরদিন ১ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে আবার কিকুর সংকেত পাওয়া যায়। তবে এবার সেটি হরমুজ প্রণালির অন্য পাশে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিই বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহন খাতে ব্যবহৃত নতুন কৌশলের অংশ- ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে রাতের আঁধারে মার্কিন সামরিক পাহারায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা।

লক্ষ্য হলো ইরানি ড্রোন হামলা এড়িয়ে তেল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া। এর আগে কিকুকে লক্ষ্য করে ইরানি একটি ড্রোন হামলা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সেই হামলার বিস্ফোরণ ঘটেনি।

৮০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল যাচ্ছে প্রতিদিন
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে।

পরিমাণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাহাজের ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে ওয়াল স্ট্রিটের তেল বিশ্লেষক ও কেপলারের মতো শিপিং ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানগুলো যে পরিমাণ তেল পরিবহনের হিসাব দেয়, এর তুলনায় প্রকৃত সরবরাহ প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

অর্থাৎ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে চলাচল করা জাহাজগুলোর কারণে এতদিন তেল পরিবহনের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি ধরা পড়ছিল না।

কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল কোম্পানিগুলো এখন নিজেদের তেল পরিবহনের জন্য ট্যাংকার ভাড়া করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সহায়তায় এসব জাহাজ পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগরে যাচ্ছে।

সেখানে ক্রেতাদের মালিকানাধীন অপেক্ষমাণ ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে। এরপর প্রথম জাহাজগুলো আবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ফিরে আসছে।

এর ফলে তেল পরিবহনের বীমা ব্যয় ও ইরানি হামলার সরাসরি ঝুঁকি বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে অনেকটাই সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও তেল উৎপাদকদের ওপর পড়ছে।

এক দিনে ডজনের বেশি জাহাজ থেকে তেল স্থানান্তর
ওমান উপসাগরে দুই দিনে এক ডজনের বেশি জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এসব তেলবাহী জাহাজ পরে চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর দিকে রওনা হয়েছে।

তবে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র প্রায় ২৩ মাইল। ফলে জাহাজের লুকিয়ে চলাচলের সুযোগ সীমিত। ট্রান্সপন্ডার বন্ধ থাকলেও রাডার ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জাহাজ শনাক্ত করা সম্ভব।

এমনকি চলতি সপ্তাহেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী কেপলারের তথ্যানুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা জাহাজের প্রায় ৮০ শতাংশই ‘ডার্ক’ অবস্থায় অর্থাৎ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে ওমানের উপকূল ঘেঁষে চলাচল করেছে।

তবে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে কিছু এলাকায় জিপিএস সংকেত জ্যাম হওয়ায় জাহাজ চলাচলের সঠিক হিসাব করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কিকুর তেল গেল চীনে
কিকুর যাত্রাপথও এই নতুন কৌশলের কার্যকারিতা তুলে ধরে। ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করার প্রায় এক দিন পর কিকুকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের কাছে দেখা যায়। পরে ট্রান্সপন্ডার চালু করলে দেখা যায়, জাহাজটি গ্রিক মালিকানাধীন আরেক সুপারট্যাংকার ‘নেভ ইলেকট্রন’-এর পাশে অবস্থান করছে।

নেভ ইলেকট্রন এক দিন আগেই ওমান উপসাগরে পৌঁছেছিল।

দুই জাহাজ প্রায় এক সপ্তাহ পাশাপাশি অবস্থান করে তেল স্থানান্তরের কাজ চালায়। ৮ আগস্ট তারা আলাদা হয়ে যায়। এরপর তেলবোঝাই নেভ ইলেকট্রন ওমান উপসাগর ছেড়ে আরব সাগরের দিকে যায়। এর গন্তব্য ছিল চীনের নিংবো।

অন্যদিকে কিকু ফুজাইরাহ উপকূলেই অবস্থান করে। প্রায় ১৪ আগস্ট আবারও সেটি ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেয়। পরদিন বিকাল ৪টার কিছু আগে জাহাজটির সংকেত আবার দেখা যায়। তখন সেটি পারস্য উপসাগরের দিকে, কাতারের পথে এগোচ্ছিল।

সৌদি আরবের বিকল্প পথ
হরমুজ প্রণালিকে পাশ কাটাতে শুধু ‘ডার্ক ট্রানজিট’ নয়, তেল পরিবহনের বিকল্প পথও ব্যবহার করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।

সবচেয়ে বড় উদাহরণ সৌদি আরব। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল, যা সাধারণত পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারে তোলা হতো, এখন পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাচ্ছে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল উৎপাদক দেশও প্রতিদিন আরও প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে অন্য পথে সরিয়ে নিচ্ছে। ফলে ইরানের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে তেল রফতানির নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠছে।

ব্রাজিল, গায়ানা ও ভেনেজুয়েলায় বাড়ছে উৎপাদন
বিশ্বের অন্যান্য দেশও ঘাটতি পূরণে উৎপাদন বাড়িয়েছে। ব্রাজিল, গায়ানা ও ভেনেজুয়েলা মিলিয়ে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি অতিরিক্ত তেল বাজারে যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিদিন আরও কয়েক লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়িয়েছে।
এর পাশাপাশি কয়েক মাস ধরেই অপেক্ষাকৃত কম সমন্বিত এবং সামরিক নিরাপত্তাবিহীন ‘ডার্ক ট্রানজিট’ চালু রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রও কৌশলগত মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি তেল বাজারে ছেড়েছে। এতে দেশটির স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা কৌশলগত তেল মজুত ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

চীনও তার বিশাল তেল মজুতের ওপর নির্ভর করছে। একই সময়ে দেশটি অপরিশোধিত তেল আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।

অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির চাহিদাও কমেছে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে সেটিও ভূমিকা রাখছে।

এখনও ‘পথ খুঁজে নিচ্ছে’ তেলের বাজার
যুদ্ধ শুরুর সময় অনেক বিশ্লেষক যে ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছিলেন, বাস্তবে তেলের বাজার তার চেয়ে অনেক বেশি নমনীয়তা দেখিয়েছে।

যুদ্ধের কারণে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ গত ছয় মাস ধরে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বিকল্প রুট, জরুরি মজুত, বাড়তি উৎপাদন, চাহিদা কমে যাওয়া এবং ডার্ক ট্রানজিটের মতো নানা কৌশলের মাধ্যমে বাজার এখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার মতো নয়।

মজুত কমছে, বাড়ছে ভবিষ্যৎ সংকটের আশঙ্কা
যুদ্ধ চলাকালে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত সর্বোচ্চ প্রায় ১৯০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাজারে ভারসাম্য ফিরে এলে এসব মজুত আবার পূরণ করতে হবে। তা না হলে একসময় তেলের মজুত এতটাই নিচে নেমে যেতে পারে যে বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে আর সেগুলোর ওপর নির্ভর করা সম্ভব হবে না।

তখন তেলের দাম আরও বাড়িয়ে চাহিদা কমানো ছাড়া বাজারের সামনে আর কোনও কার্যকর পথ নাও থাকতে পারে। জ্বালানি বাজারে ইতোমধ্যেই এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

পরিশোধনাগারে সংকট, চাপে জ্বালানি বাজার
বিশ্বের চারটি প্রধান জ্বালানি পরিশোধন কেন্দ্রের মধ্যে তিনটিই বর্তমানে তীব্র সংকটে রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পরিশোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং অঞ্চলটি থেকে পরিশোধিত জ্বালানি রফতানি কমিয়েছে।

একই সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি পরিশোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের মুখে মস্কোও রফতানি কমিয়েছে।

চীনও নিজেদের জ্বালানি ঘাটতি এড়াতে পরিশোধিত জ্বালানি রফতানি সীমিত করছে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চীন সাধারণত বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি রফতানিকারক।

ফলে বৈশ্বিক চাহিদার বড় অংশের চাপ এখন যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের পরিশোধনাগারগুলোর ওপর পড়েছে। কিন্তু মার্কিন পরিশোধনাগারগুলোও অনির্দিষ্টকাল সর্বোচ্চ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবে না।

বিশেষ করে গ্যাস, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের চাহিদা এত বেশি এবং সেগুলো উৎপাদনের পরিশোধন সক্ষমতা এত সীমিত যে এসব জ্বালানির দাম অপরিশোধিত তেলের দামের তুলনায়ও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

ট্রাম্পের কৌশলে পরিবর্তন, বাড়ছে তেলের দাম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে আলোচনায় সম্ভাব্য অগ্রগতির কথা বলে তেলের দাম কম রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে পরিবর্তন এসেছে।

নতুন কৌশলের লক্ষ্য হলো ইরানের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নৌ অবরোধের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো এবং দেশটির বন্দরগুলোকে কার্যত অচল করে দেওয়া।

এই পরিস্থিতিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেলের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের দ্রুত অবসানের কোনও সমাধান না আসায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতও অব্যাহত রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেল ও বিশেষ করে গ্যাস, ডিজেল এবং জেট ফুয়েলের দামে।

ফলে ভোক্তাদের জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে, মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং মানুষের হাতে থাকা ব্যয়যোগ্য আয় কমে যাচ্ছে।

তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদক ও যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া বিকল্প ব্যবস্থাগুলো বাজারকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা করছে। বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকটগুলোর একটির মধ্যেও বিকল্প রুট ও সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজার যে পরিমাণে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে, সেটিই আপাতত তেলের দামকে আরও ভয়াবহ উচ্চতায় ওঠা থেকে ঠেকিয়ে রেখেছে।

তবে এই ব্যবস্থা মূলত একটি সাময়িক সমাধান। হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধান না হলে তেল ও জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। সূত্র: সিএনএন

কিউএনবি/অনিমা/২২ অগাস্ট ২০২৬/রাত ৯:২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit