মনিরুল ইসলাম মনি : শার্শা(যশোর)সংবাদদাতা : গত ২৭ এপ্রিল গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলাশী জিয়া খাল পূণ:খননে জিয়া খাল এখন প্রবাহমান। দীর্ঘ প্রায় অর্ধশত বছর পর পিতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে কাটানো উলাশী জিয়া খালে এখন স্রোত বইছে।
খাল কাটার কারনে শার্শা উপজেলায় ভরা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা না থাকায় সোনামুখী ও বনমান্দার বিলের হাজার হাজার একর জমিতে কৃষকেরা আমন ধান রোপন করেছে। খাল খননের ফলে এবছরের বর্ষা মৌসুমে সোনামুখী, বনমান্দারসহ শার্শা উপজেলা ২২টি ছোট বড় বিলের পানি উলাশী জিয়া খাল দিয়ের প্রবাহিত হচ্ছে।বর্ষা মৌসুমে বিল গুলোতে এখন কোন প্রকার জলাবদ্ধতা নেই।
সাধারন মানুষ ও স্থানীয় জেলেরা উলাশী জিয়া খালে মাছ ধরছে। শুষ্ক মৌসুমে জিয়া খালের জমা পানি দিয়ে খালের পাশে থাকা জমিতে সোনার ফসল ফলাবে বলে কৃসকের চোখে মুখে নতুন ভাবে ফসল ফলানোর স্বপ্ন জ্বল জ্বল করছে। গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শার্শার উলাশীতে তার পিতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘৗ উলাশী জিয়া খাল পূণ:খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেছিলেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর সেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘৗ উলাশী জিয়া খাল খনন করেছিলেন। আবারো প্রায় ৫০ বছর পর পিতার হাতে কাটা উলাশী জিয়া খাল পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে পূণঃখনন করেন। খাল খননের পর থেকে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেনী পেষার মানুষ উৎসব মুখর পরিবেশে জিয়া খাল দেখতে পরিদর্শন করছেন।
সে সময় উলাশী জিয়া খাল খননের সময় উলাশী পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ, জ্বালাানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছিলেন উলাশী জিয়া খাল পূণঃখননের মাধ্যমে প্রায়ত বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সন্মানীত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম’র যশোরের উন্নয়নের চাকা নতুন করে সচল হবে।
বিগত ১৭ বছরে যশোরসহ শার্শার যে উন্নয়নের চাকা থমকে গিয়েছিল তা আবার সচল হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালাান ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেছিলেন ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর সেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পিতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে খনন করা উলাশী জিয়া খাল পূণঃখনন শার্শা তথা উলাশী বাসীর জন্য বড় আনন্দের ও সু সংবাদ হিসেবে স্মৃতি হয়ে থাকবে।
উলাশী জিয়া খাল এলাকা সরজমিনে দেখা গেছে, এখন জিয়া খালের পানিতে স্্েরাত বইছে। শিশু ও কিশোর, যুবকেরা খালের পানিতে গোসল করছে, সাঁতার কাটছে। সকাণ সন্ধা বিভিন্ন সময় খালের পানিতে মাছ ধরছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, যে বেতনা নদীর পানি দ্বারা এই খালের পানি প্রবাহিত হতো সেই বেতনা নদী এখনও বেদখল হয়ে আছে। তবে এই খাল খননের মধ্যে দিয়ে আবারও কৃষক উপকৃত হচ্ছে ও এলাকার জীব বৈচীত্রের সৌন্দর্য বৃদ্বি পেয়েছে। খালের দুই পাড়ে গাছ লাগালে ও খালে হাঁস ও মাছ চাষ করলে উলাশী তথা শার্শার অর্থ নীতির পরিবর্তন হবে ।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইস্তেহারে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষে গত ২৭ এপ্রিল গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ্য ৪ কিলোমিটার উলাশী জিয়া খাল পূণঃখননের শুভ উদ্বোধন করেন ও খাল খনন কাজ শুরু করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘদিন উলাশী জিয়া খাল খনন না করায় খালের নব্যতা হারিয়ে যায়। তিনি বলেন খাল খননের ফলে এখন শার্শা সোনামুখী ও বনমান্দার সহ অনেক বিলে ভরা বর্ষা মৌসুমে কোন জলাবদ্ধতা নেই।
যে কারনে এসব বিলে সাধারন প্রান্তীক চাষীরা আমন ধান রোপন করছে। তিনি বলেন খাল খননের ফলে এল এল পি পাম্পের মাধ্যমে চাষীরা সেচের সুযোগ পাবে। খালে পানি প্রবাহের কারনে বর্তমান শার্শায় তেমন কোন জলাবদ্ধতা নেই। যে কারনে শার্শা এ মৌসুমে ২০ হাজার ৪শত ৪৮ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হচ্ছে। তিনি বলেন ইতিমধ্যে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপন হয়েছে। তিনি আরও বলেন জলাবদ্ধতা না থাকায় এ বছর আমলেন লক্ষমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/১৯ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৪:৪৪