সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন

স্পেনে ঢুকেও মেলেনি আশ্রয়, রাস্তায় মরক্কোর শত শত নাগরিক

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটায় কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার মরক্কোর নাগরিক প্রবেশের পর সেখানে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। অনেকেই স্পেনে প্রবেশ করতে পারলেও মূল ভূখণ্ডে যেতে পারছেন না। ফলে শত শত মানুষ পার্ক, ফুটপাত ও খোলা জায়গায় রাত কাটাচ্ছেন।

৪৪ বছর বয়সী মরক্কোর নাগরিক ইউসুফ এল আব্বাস জানান, ২০১৯ সালে স্পেনে চাকরি হারিয়ে বসবাসের অনুমতি শেষ হওয়ায় তাকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি সীমান্ত খোলা থাকার খবর পেয়ে তিনি মরক্কোর ফনিদেক শহরে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, সাধারণত যেসব পুলিশি বাধা থাকে, সেগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে।

তার দাবি, মরক্কোর পুলিশ অনেককে স্পেনের দিকে দৌড়ে যেতে উৎসাহিত করছিল। মাত্র পাঁচ মিনিট সাঁতার কেটে তিনি সিউটায় পৌঁছে যান। তবে এই যাত্রায় অন্তত চারজনের মরদেহ পানিতে ভাসতে দেখেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৭২ জন মারা গেছেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে দেশের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছেন। স্পেনের সরকারের দাবি, মানবপাচারকারী চক্র আদালতের সাম্প্রতিক এক রায়ের সুযোগ নিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে স্পেনের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেই মরক্কো সীমান্তে শিথিলতা দেখিয়েছে।

অন্যদিকে মরক্কো সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, অপরাধী চক্রই মানুষকে সীমান্তে যেতে উৎসাহিত করেছে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় স্পেনের সঙ্গে মরক্কোর সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

সিউটায় পৌঁছানোর পর ইউসুফ এল আব্বাসের অভিজ্ঞতা ছিল মিশ্র। তিনি বলেন, সৈকতে ওঠার সময় স্পেনের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা তাকে হাত ধরে টেনে তুলেছিলেন। কিন্তু কয়েক দিন পর একই বাহিনীর সদস্যরা তাকে ও তার সঙ্গে থাকা অন্যদের মারধর করেন।

এদিকে অধিকাংশ মানুষকে ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হলেও এখনও কয়েকশ মানুষ সিউটায় অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই খাবার, আশ্রয় ও চিকিৎসার সংকটে রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা পানি, খাবার, কম্বল ও পোশাক দিয়ে তাদের সহায়তা করছেন।

১৭ বছর বয়সী মরক্কোর কিশোর সাঈদ জানান, তিনি একটি সুরক্ষা কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে আবার রাস্তায় ফিরে এসেছেন। তার স্বপ্ন, একটি আশ্রয়কেন্দ্রে থেকে স্প্যানিশ ভাষা শেখা এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে নাপিত হিসেবে কাজ শুরু করা। তবে বৈধ কাগজপত্র না পেলে সেই স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

এদিকে সিউটার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকট শহরের সামাজিক বিভাজন বাড়িয়ে দিতে পারে এবং উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। স্থানীয়দের আশা, মানবিক সহায়তা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে শহরটি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

কিউএনবি/অনিমা/০৩ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ৯:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit