সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া এলাকায় নতুন করে বাড়ীঘরে ফাটল ও তলিয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি॥

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৬ Time View

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া নতুন করে বাড়ীঘরে ফাঁটল ও তলিয়ে যাচ্ছে আবাদী জমি। ভূমি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটি ৭ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ইতোপূর্বে বহুবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেও কোনো সুফল পাননি।

গতকাল বুধবার দুপুরে পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া এলাকার গ্রাম দুটিতে ঘুরে দেখা যায় প্রায় বাড়ীতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। অপর দিকে গ্রামের পূর্বদিকে ভূ-গর্ভের নিচ থেকে কয়লা উত্তোলনের কারণে প্রায় সাড়ে ৩ ফিট তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১শত একর জমিতে ৪ ফিট পানি জমা হয়েছে। গভীর রাতে ভূ-গর্ভে প্রচন্ড কম্পনের কারণে বাড়ী ঘরে ফাটল ধরছে। এতে গ্রামের লোক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

কমিটির সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় নানা সমস্যা নিয়ে জীবন যাপন করছি। কয়লা তোলার কারণে ভয়ে বসতবাড়িতে রাত্রিযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।” তিনি আরও জানান, গত বুধবার গভীর রাত্রিতে অতিবৃষ্টি হওয়ায় পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া গ্রামের পূর্ব দিকে একের পর এক আবাদি জমি তলিয়ে যাচ্ছে এবং জমিতে পানি জমে থাকছে। এই জমিতে কোনোভাবে চলতি বছর আমন ধান চাষ করা সম্ভব নয় কৃষকদের। এতে ৩ শত একর জমি চাষাবাদের ক্ষতি হবে। কেননা ৩ ফিট তলিয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর ও জমি এককালীন অধিগ্রহণ করার দাবি জানান। এছাড়া খনি কর্তৃপক্ষ পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া গ্রাম দুইটির কোনো জমি অধিগ্রহণ করেননি। তারা নতুন করে এদিকে কয়লা উত্তোলন শুরু করায় এই গ্রাম দুটি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ দিকে ২ যুগ ধরে খনির কারণে এই এলাকার মানুষের অফুরন্ত ক্ষতি সাধন হয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, হাট-বাজার, কবরস্থান, রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে। এই এলাকায় এখন আর কেউ বসবাস করতে চায় না। কারণ এলাকার মানুষ খনির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে ।

একই কথা বলেন গ্রামের মোঃ সাগির ইসলাম, আকাশ মাহমুদ হিটলার, ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, মোঃ আবু তাহের এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফরহাদ আলী। এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ শাহ্ আলম এর সাথে গতকাল বুধবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন গ্রহণ করেননি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কারণে পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া গ্রামে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হলে এর দায়ভার খনি কর্তৃপক্ষকে নিতে বলে সংগঠনের সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমানসহ এলাকাবাসী জানান।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২২ জুলাই ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit