আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোজনরসিক বাঙালির কাছে বাংলাদেশি ইলিশের চাহিদা বরাবরই শীর্ষে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ না যাওয়ায় কার্যত হতাশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা। সেখানকার ডায়মন্ড হারবার, দীঘা, কোলাঘাট, কাকদ্বীপসহ ভারতের অন্য রাজ্য থেকে ইলিশ আসলেও তার স্বাদ ও গন্ধ দুটোই বাংলাদেশের ইলিশের থেকে আলাদা। আর এ সুযোগ নিয়ে থাকে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। বেশি মুনাফার লোভে এরা ভারতের অন্য রাজ্য থেকে নিয়ে আসা ইলিশকে ‘বাংলাদেশি ইলিশ’ বলে বিক্রি করেন।
এমন অভিযোগে রবিবার বনগাঁ নিউ মার্কেটের ‘মা মনসা ফিশ সেন্টার’-এ এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকানে থাকা ইলিশের উৎস এবং মাছগুলো বাংলাদেশ থেকে এসেছে কি না, তা নথিপত্র যাচাই করে দেখেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযোগ রয়েছে, দোকানটিতে বিক্রি করা ইলিশের প্যাকেটের গায়ে উৎস ও মেয়াদসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ ছিল না। এমনকি মাছগুলো বাংলাদেশি ইলিশ কি না, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে অবৈধভাবে বাংলাদেশি ইলিশ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দোকানটির কর্মকর্তা যাদব হালদার। তিনি বলেন, ‘খাদ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা এসে আমাদের স্টোরের ইলিশ মাছ দেখে গেছেন। তারা জানতে চেয়েছেন মাছগুলো কোথা থেকে এবং কবে এসেছে। আরও কিছু নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা সেগুলো সংগ্রহের চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বারাসাতের দাস বাবুর স্টোর থেকে ইলিশ মাছ কিনে বনগাঁর খোলা বাজারে বিক্রি করি। তবে প্যাকেটের গায়ে বিস্তারিত তথ্যসংবলিত স্টিকার থাকার বিষয়টি আগে কখনো দেখিনি বা জানতেও চাইনি।’
এদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে উৎসবের মৌসুমকে সামনে রেখে রাজ্যের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফুড কোর্ট, মিষ্টির দোকান ও খাদ্যপণ্য কারখানায় খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি যাচাইয়ে অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর।
এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বা অন্য উৎসের ইলিশকে বাংলাদেশি ইলিশ হিসেবে বিক্রির অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কিউএনবি/অনিমা/০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১১:৫৯