স্পোর্টস ডেস্ক : নিউইয়র্কের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের দামামা বাজছে, তখন আর্জেন্টাইন শিবিরের সবচেয়ে বড় আস্থার প্রতীক এমিলিয়ানো (দিবু) মার্তিনেজ যেন আবেগের এক উত্তাল সাগরে ভাসছেন। বিশ্বমঞ্চের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের ঠিক আগের সংবাদ সম্মেলনে এসে দিবুর কন্ঠে ঝরে পড়ল এক অদ্ভুত প্রশান্তি আর কৃতজ্ঞতার সুর।
গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে অসীম সাহসে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দেওয়া এই গোলরক্ষক স্বীকার করলেন, অতীতের কঠিন পথ আর অর্জিত সাফল্যের কথা ভাবলে মাঝেমধ্যেই তার দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
দিবু মার্তিনেজের কাছে এই ফাইনাল কেবলই একটা ম্যাচ নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা এক স্বপ্নের পূর্ণতা। তার মতে, একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে অনেক সময় বাস্তবতা উপলব্ধি করা কঠিন হয়ে পড়ে, কিন্তু এই মহালগ্নটিকে সারা জীবন মনে রাখার মতো করে উপভোগ করতে চান তিনি।
নিজের চোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি খোলাখুলি জানালেন, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে হাতের অসহ্য যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করেই তিনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। অস্ত্রোপচারের পরামর্শ উপেক্ষা করে ব্যথা সহ্য করেই মাঠের লড়াইয়ে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন তিনি, যা তার অদম্য জেদ আর দেশের প্রতি ভালোবাসারই প্রতিচ্ছবি।
গোলরক্ষক হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথা বলতে গিয়ে দিবু বলেন, গোল বাঁচানোর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো পুরো দলকে আত্মবিশ্বাস দেওয়া। তার মতে, ডিফেন্সের পেছনে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের নিশ্চিন্ত রাখতে পারাটাই তার মূল শক্তি। মাঠের বাইরে তিনি হয়তো আগ্রাসী কিন্তু মাঠের ভেতর তিনি দলের জন্য এক শান্ত ছায়া। শৈশবের সেই আবেগি ভক্ত দিবু থেকে আজকের বিশ্বসেরা গোলরক্ষক হয়ে ওঠার গল্পটা তিনি মনে করিয়ে দিলেন নতুন প্রজন্মের খুদে ফুটবলারদের। শিশুদের স্বপ্ন দেখাতে গিয়ে তিনি বিনয়ের সাথে যোগ করলেন, গোলরক্ষক হওয়া সহজ নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কঠোর ত্যাগ আর অবিরাম শ্রম।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেনকে নিয়ে যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল হলেও নিজের দলের শক্তির ওপর তার অগাধ আস্থা। দিবু বিশ্বাস করেন, আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলোয়াড় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি, যারা প্রতিটি পদক্ষেপে লড়াই করতে জানে। স্পেনের তারুণ্য আর কৌশলের বিপরীতে আর্জেন্টিনার এই একতা আর হার না মানা মানসিকতাই গড়ে দেবে জয়ের ব্যবধান।
সূত্র: মার্কা
কিউএনবি/অনিমা/১৮ জুলাই ২০২৬,/রাত ৯:৫৭