শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

বিশ্বকাপ জিততে আর্জেন্টিনার যে শিক্ষা কাজে লাগাতে পারে স্পেন

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৫ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফাইনালের হাইভোল্টেজ মহারণের আগে লিওনেল মেসির প্রশংসায় মেতেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্প্যানিশ এই কোচ এমন কিছু গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যা আগামী রোববারের (১৯ জুলাই) ফাইনালের আগে তার নিজের দলের মধ্যেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

দে লা ফুয়েন্তে জানান, মেসি এখনো ১৯ বা ২৩ বছর বয়সি কোনো তরুণের মতো উদ্যম নিয়ে খেলেন। কাকতালীয়ভাবে, এবারের আসরের অন্যতম কনিষ্ঠ দল নিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। ‘লা রোহা’দের গড় বয়স মাত্র ২৬.১ বছর, যেখানে আর্জেন্টিনার গড় বয়স ২৮.৫ বছর। মাঠের লড়াইয়ে স্পেনের এই তরুণ ও সতেজ পাগুলো তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। 

স্পেন কোচ মেসির পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার প্রশংসা করলেও, তার নিজের তরুণ খেলোয়াড়রাও বয়সের তুলনায় মাঠে অসাধারণ চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ইতোমধ্যেই বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন স্প্যানিশ স্টারবয় লামিন ইয়ামাল। 

ইয়ামাল বারবারই বলেছেন যে, তার ওপর কোনো চাপ কাজ করে না; তিনি স্রেফ ফুটবল খেলাটা উপভোগ করেন। ফাইনালের মঞ্চে এই চাপহীন মানসিকতাই স্পেনের অন্যতম বড় অস্ত্র হতে পারে। তার পাশাপাশি পেদ্রো পোরোর মতো খেলোয়াড়রা যেমন কঠিন মুহূর্তে দলের হাল ধরেছেন, তেমনি দানি ওলমো দলের প্রয়োজনে বারবার নিজেকে মেলে ধরেছেন।

মেসিকে ‘ক্লান্তিহীন এবং অতৃপ্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দে লা ফুয়েন্তে। টুর্নামেন্ট জুড়ে স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যেও এই গুণগুলোর দেখা মিলেছে। তরুণ প্রজন্মের ওপর ভরসা রেখে লা রোহারা প্রমাণ করেছে যে, প্রতিভাবান তরুণদের ওপর আস্থা রাখলে যেকোনো দলের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার মতো একটি শক্তিশালী দল গঠন করা সম্ভব। 

আর্জেন্টিনার থেকে পাওয়া বড় শিক্ষা 

মেসির মানসিকতা নিয়ে কথা বলার সময় দে লা ফুয়েন্তের সাক্ষাৎকারে একটি শক্তিশালী বার্তা উঠে আসে। স্প্যানিশ কোচ ব্যাখ্যা করেন, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা কিংবা পুরো ম্যাচজুড়ে লড়াইয়ে টিকে থাকার সংগ্রাম কোনো বাধা নয়—যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের ওপর বিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা বজায় থাকে। 

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বারবার তা প্রমাণ করেছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতার কারণে দলটির বেশ কয়েকটি বড় জয় এসেছে একদম শেষ মুহূর্তে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে, রেফরির শেষ বাঁশি বাজার আগে ম্যাচ জয় বা পরাজয়ের কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়।

যার বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়েছে ইংল্যান্ডের। ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর তারা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, ভেবেছিল এক গোলই ফাইনাল নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আর্জেন্টিনা ও মেসি ভিন্ন কিছু ভেবেছিলেন; তারা ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান।

দে লা ফুয়েন্তের বক্তব্য শুনলে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা কতটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। মেসির যে গুণগুলোর প্রতি তিনি মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন—তারুণ্যের শক্তি, সহনশীলতা, পরিপক্বতা এবং হার না মানার মানসিকতা—তার সবটুকুই স্পেনের এই দলে বিদ্যমান। মাঠের লড়াইয়ে স্পেন যদি এই গুণগুলোর সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পারে, তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পরাস্ত করার উপযুক্ত সূত্রটি তাদের হাতেই থাকবে। 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৭ জুলাই ২০২৬,/দুপুর ২:৪৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit