আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরাক থেকে সিরিয়া হয়ে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কাছে উন্নত অস্ত্র পাচারের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি। এ ঘটনায় সিরিয়া সরকারের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী জানান, ইরাক-সিরিয়া সীমান্ত ব্যবহার করে হিজবুল্লাহর কাছে উন্নত অস্ত্র পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এই কমিটি কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড (জেওসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, সীমান্ত নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি প্রমাণিত হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে যৌথ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী যেকোনো তৎপরতা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সিরিয়া-ইরাক সীমান্ত দিয়ে উন্নত অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের একটি চালান পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ করেছে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাতে সংস্থাটি জানায়, এসব অস্ত্র লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল। জব্দ করা অস্ত্রের মধ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংকবিধ্বংসী নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ইরাকের বর্তমান সরকার আগের সরকারগুলোর মতোই একদিকে প্রতিবেশী ইরান এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটির বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে। আসাদ ছিলেন ইরান ও ইরাকের ঘনিষ্ঠ মিত্র। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী আসাদ সরকারের পক্ষে লড়াই করতে দেশটিতে প্রবেশ করেছিল। এসব গোষ্ঠীর কয়েকটি বর্তমানে ইরাকের ক্ষমতাসীন জোটেরও অংশ।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরাক নতুন সিরীয় প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দেশটির স্থিতিশীলতা জোরদারে কাজ করছে। এদিকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের ওপর চাপ দিয়ে আসছে। বিশেষ করে এসব গোষ্ঠীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে হামলার চেষ্টা ঠেকানোর বিষয়টি ওয়াশিংটনের অন্যতম দাবি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে বাগদাদ। এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি দুই দেশের মধ্যে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ তদারকি করেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির গবেষক হায়দার আল-শাকেরি বলেন, ইরাকি সরকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের আলাদা অবস্থান দেখাতে চায়। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাগদাদ যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিতে চায় যে, সীমান্তপথে পরিচালিত নেটওয়ার্কগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে। তবে এটি কৌশলগত পদক্ষেপ, নাকি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিবর্তন—তা নির্ভর করবে সরকার গ্রেফতার, বিচার, সীমান্তে কঠোর নজরদারি এবং এসব নেটওয়ার্ককে রক্ষা করা রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কি না তার ওপর।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
কিউএনবি/আয়শা/১৭ জুলাই ২০২৬,/দুপুর ২:৫৮