স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের ফাইনাল সময়েরও লড়াই। এক পাশে ইতিহাস। অন্য পাশে ভবিষ্যৎ। এক পাশে বিদায়ের আলো। অন্য পাশে নতুন সূর্যের প্রথম আলো। এক পাশে লিওনেল মেসি। অন্য পাশে লামিন ইয়ামাল। একজনের শেষ বিশ্বকাপ। আরেকজনের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল। খেলা শেষে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সংগে ফুটবলের নতুন অধ্যায়েরও শুরু হবে। মেসির প্রথম বিশ্বকাপ খেলার সময় ইয়ামালের জন্মই হয়নি। তারা আজ একই মাঠে।
একই ট্রফির জন্য। দুই দশক ধরে মেসি ফুটবলকে নতুন করে লিখেছেন। তার বাঁ পায়ের প্রতিটি স্পর্শ কোটি মানুষের শৈশব, কৈশোর আর যৌবনের অংশ হয়ে গেছে। কত রাত জেগে থাকা। কত উল্লাস। কত কান্না। কত অপূর্ণতা। কত স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপও তার হাতে উঠেছে। ইয়ামাল গল্পের শুরুতে দাঁড়িয়ে। বয়স কম। ভয় নেই। চোখে শুধু স্বপ্ন। যে বয়সে অনেকেই বিশ্বকাপ টেলিভিশনের সামনে বসে দেখে, সেই বয়সেই তিনি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলছেন। কোটি মানুষের প্রত্যাশা তার কাঁধে। তিনি পাড়ার মাঠে খেলছেন। হাসছেন। দৌড়াচ্ছেন। ড্রিবল করছেন। ফুটবল উপভোগ করছেন।
কিংবদন্তিরা বিদায় নেন। ফুটবল কখনো থেমে থাকে না। পেলে বিদায় নিয়েছেন। এসেছেন ম্যারাডোনা। ম্যারাডোনা বিদায় নিয়েছেন। এসেছেন জিদান। জিদানের পর এসেছে মেসির সময়। এখন সেই সময়ও শেষের পথে। ইতিহাস কখনো খালি থাকে না। একজন সরে দাঁড়ান। আরেকজন জায়গা নেন। ফুটবলের মুকুটও এভাবেই হাতবদল হয়। ফাইনাল দুই প্রজন্মেরও লড়াই। একজন নিজের শেষ অধ্যায় লিখছেন। আরেকজন প্রথম অধ্যায়ের প্রথম লাইন।
শেষ বাঁশির পর মেসি ট্রফি হাতে আকাশের দিকে তাকাবেন। পৃথিবী দাঁড়িয়ে করতালি দেবে। ফুটবলকে সৌন্দর্যের আরেকটি নাম বানিয়েছেন। ট্রফি ইয়ামালের হাতে উঠলে নতুন একটি যুগ শুরু হয়ে যাবে। হয়তো বহু বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে ইয়ামালও এমন একটি ফাইনালে দাঁড়াবেন। তার সামনে থাকবে আরেক কিশোর। তখন একটি যুগ শেষ হয়ে আরেকটি যুগ শুরু হবে। ফুটবলে কেউ চিরকাল রাজা থাকে না। শুধু মুকুটটি নতুন মাথা খুঁজে নেয়। ফুটবলের মুকুট কি শেষবারের মতো মেসির মাথায় উঠবে? নাকি ইয়ামালের হাতে? উত্তর জানা যাবে শেষ বাঁশির পর। ফল যাই হোক, ফুটবলে কিংবদন্তি বিদায় নেন। কিংবদন্তির জন্মও হয়।
কিউএনবি/আয়শা/১৭ জুলাই ২০২৬,/দুপুর ২:৩৪