আশুলিয়ায় মুদির দোকানের আড়ালে সুদের ব্যবসা; জিম্মি সাধারন মানুষ
মশিউর রহমান, আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি ।
Update Time :
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
৫০
Time View
মশিউর রহমান, আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার আশুলিয়ায় মুদি দোকানের আড়ালে মোটা অংকে সুদের ব্যবসা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। আশুলিয়ার নরসিংহপুর ইটখোলা অন্ধকলোনী এলাকার প্রভাবশালী গৌরাঙ্গ বাবুর জামাই লিটন দাসের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, অসহায় শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষদের চড়া সুদে ঋণ দিয়ে পরবর্তীতে তাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মারধর ও হেনস্থার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায় বলে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এছাড়াও বর্ষণ রেষ্টুরেন্টের পিছনে পরিত্যক্ত জায়গায় লিটনের ছেলে বর্ষণের নেতৃত্বে চলে মাদক সেবনের আড্ডা। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ এর প্রতিবাদ করতে পারছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লিটন দাস দীর্ঘদিন ধরে সুদে টাকা লাগায়। কেউ তার কাছ থেকে সমস্যায় পড়ে টাকা নিলে, যদি টাকা দিতে দেরী হয়, তাহলে সে ও তার ছেলে বর্ষণ তাদেরকে ধরে নিয়ে মারধর করে। এমনও কি কারো ভোটার আইডি কার্ড কৌশলে নিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। যদি না দিতে পারে মারধর সহ নানা রকম হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। ভয়ে অনেকে এলাকায় থাকতে পারে না। লিটনের এই বিষয় নিয়ে কয়েকবার বিচার শালীশ পর্যন্ত হয়েছে। সে তা মানে না। কিছুদিন আগে খাইরুল নামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে সে টাকার জন্য বাসা থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে এবং ২লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। তার ছেলে বর্ষণের নেতৃত্বে তাদের রেষ্টুরেন্টের পিছনে দিনে ও রাতের আধারে ছেলেপেলে নিয়ে মাদক সেবন করে।
চায়ের দোকানী স্বপ্না আক্তার বলেন, আমার পোলা জুয়েল লিটনের কাছ থেইক্যা সমস্যায় পইড়া ট্যাকা নেয়। এরপরে আমার পোলার ভোটার আইডি কার্ড নিয়া নেয়। অনেকবার চাওয়ার পরও দেইনাই। কেউ তার কাছ থেইকা ট্যাকা নিয়া, যদি তা দিতে একটু দেরী হয় তাইলে পরে তার ছেল বর্ষণের মাধ্যমে ধইরা নিয়া মাইরধইর করে। তার ছেলে যেই অত্যাচার করে, তা সওনের মত নয়। আমরা মুসলমানরা বালা দেইখা তাদেরকে কিছু কয় না, দেহেন না ইন্ডিয়ায় মুসলমানদের ওপর কি অত্যাচার হইতাছে। এ বিষয়ে জানতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত লিটন দাসকে পাওয়া যায়নি বিধায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এরপরে লিটনের শশুর গৌরঙ্গ বাবুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এগুলোতো দোকানদার ও এলাকাবসী মিলে একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছি যে, আমার জামাই এগুলো আর জীবনে করবে না। আপনার জামাইর রেষ্টুরেন্টের পিছনে পরিত্যক্ত জায়গায় তার ছেলে বর্ষণের নেতৃত্বে দিনে ও রাতের আধারে চলে মাদক সেবন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওইখানে হামীমের সিকিউরিটি গার্ড ও পুলিশ থাকে, একদম মিছা কথা, কোন মাদকের আড্ডা বসে না। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসী) মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের একটি অভিযোগ থানায় হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা ঘটনাস্থলে যাই, ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত তারা আপোষ মিমাংসা করেছে বলে জানায়। বাদী পক্ষকে মামলা করতে অনুরোধ করি, সে মামলা করবে না বলে জানায় এবং স্থানীয়ভাবে তারা আপোষ হয়েছে বলে এয়োও জানায়।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সুদে টাকা লাগানো যাবে না। এই বিষয়ে যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সাথে মাদকের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। এর সাথে জড়িতদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।