রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

ওপেক ছাড়ার পর আমিরাতের তেল উৎপাদন রেকর্ড ছুঁয়েছে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ২৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : জ্বালানি খাতের আন্তর্জাতিক জোট ওপেকের দীর্ঘদিনের বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে আসার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তার খনিজ তেল উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ওপেকের নেতৃত্বদানকারী দেশ সৌদি আরবের সাথে নীতিগত দূরত্বের কারণে গত মে মাসে জোটটি ত্যাগ করে আবুধাবি। 

এর পর পরই নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে গত জুন মাসে দৈনিক ৪১ লক্ষ ব্যারেলে উন্নীত করেছে দেশটি, যা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে দেশটির দৈনিক গড় উৎপাদন ছিল ৩৫ লক্ষ ব্যারেল এবং ২০২০ সালে রাশিয়া-সৌদি আরব মূল্যযুদ্ধের সময় সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৪০ লক্ষ ব্যারেল।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই আবুধাবি মনে করত সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক তাদের তেল উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা। নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আমিরাত বিপুল বিনিয়োগ করলেও বাজারের মূল্য ধরে রাখার স্বার্থে সৌদি আরব তাদের বেশি তেল উৎপাদনে প্রতিনিয়ত বাধা দিচ্ছিল। 

অবশেষে ইয়েমেন, সুদান ও ইসরাইল ইস্যুতে রিয়াদের সাথে কূটনৈতিক দূরত্বের জেরে মে মাসে ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগ করে আবুধাবি। আমিরাতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন, যারা ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিল। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও পশ্চিমা দেশগুলোর জরুরি মজুত উন্মুক্ত করা এবং চীনের আমদানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার কারণে বাজার বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। তবে ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝেও পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণকে ফাঁকি দিয়ে তেল রপ্তানি সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। হরমুজ প্রণালি এড়াতে দেশটির একটি প্রধান তেল পাইপলাইন ফুজিরাহ বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যা সরাসরি ওমান উপসাগরে গিয়ে মিলেছে। 

তবে এই পাইপলাইনটি ইরানি ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকায় বিকল্প পথও বেছে নিয়েছে আবুধাবি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের সময় মার্কিন-ইসরাইলি জোটের অংশ হিসেবে ইরানের ওপর হামলা চালালেও পরবর্তীতে আমিরাত তার কৌশল পরিবর্তন করে এবং হামলার ঝুঁকি এড়াতে ইরানকে বিপুল অর্থ প্রদান করে।একই সাথে সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানায়, ট্রান্সপন্ডার বা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখে ‘ডার্ক ভেসেল’ বা ছদ্মবেশী ট্যাংকারের মাধ্যমেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে গোপনে তেল সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে তারা।

আইএইএ তাদের প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়লেও যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় শোধিত জ্বালানি পণ্যের (যেমন ডিজেল, এলপিজি ও জেট ফুয়েল) সরবরাহ এখনো অর্ধেকেরও কম রয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোকে, যারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি মূল্যে তেল কিনতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও নিজস্ব বিশাল ট্যাংকার বহর ব্যবহার করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথে উচ্চ ভাড়ায় জাহাজ পরিচালনায় রাজি থাকা নৌ-মালিকদের কাজে লাগিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তুলছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১১ জুলাই ২০২৬,/রাত ১১:২০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit