শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম

পিস্তল উপহার দিয়ে ন্যাটো নেতাদের বিপদে ফেললেন এরদোয়ান

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আঙ্কারা শীর্ষ সম্মেলন শেষে ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের বুলেটসহ রিভলবার উপহার দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। অস্বাভাবিক এই উপহারের কারণে বেশ কয়েকটি দেশের সরকারকে এখন শুল্ক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিল প্রোটোকল মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা প্রদর্শন করতেই এরদোয়ান এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নৌসেদার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কাঠের তৈরি একটি বাক্সে তুর্কি পতাকা ও ন্যাটোর লোগোসহ একটি ‘গুমুশায় .৩৫৭ ম্যাগনাম’ রিভলবার রাখা আছে। বাক্সের ভেতরের একটি ফলকে লেখা রয়েছে, এটি তুরস্কের তৈরি প্রথম রিভলবার জাতীয় হ্যান্ডগান। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত নেতাকে একই মডেলের পিস্তল দেওয়া হয়েছে, যেগুলোতে তাদের নাম খোদাই করা ছিল।

এই উপহারের পর বিভিন্ন দেশের নেতারা আইনি ও নিরাপত্তা জটিলতায় পড়েছেন। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার দেশে ফেরার পর তার লাগজে হ্যান্ডগান ও গোলাবারুদ খুঁজে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা ব্রাসেলস বিমানবন্দর পুলিশের কাছে নিরাপদ হেফাজতে জমা দেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরকির একজন সহকারী জানিয়েছেন, তাদের উপহারটি ওয়ারশ বিমানবন্দরে শুল্ক ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে এবং নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হবে যেন উপহার হিসেবে এর মর্যাদা বজায় থাকে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উপহার পাওয়া বন্দুকটির সঙ্গে একটি ক্লিনিং কিট এবং ৫০০টি গুলি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে তিনি সেটি দেশে নিয়ে যেতে পারেননি এবং নিষ্ক্রিয় করার জন্য আঙ্কারাতেই রেখে এসেছেন। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, তাদের রিভলবারগুলো আপাতত আঙ্কারায় নিজ নিজ দূতাবাসে রাখা হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির রিভলবারটি ইতিমধ্যেই অন্যান্য রাষ্ট্রীয় উপহারের সাথে রোমের পালাজ্জো চিগিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস তাদের উপহার পাওয়া পিস্তলগুলো যথাক্রমে সামরিক ও যুদ্ধ জাদুঘরে দান করার পরিকল্পনা করছেন।

কূটনৈতিক মহলে এই উপহারের প্রতীকী অর্থ নিয়ে নানা আলোচনা চললেও কর্মকর্তারা বিষয়টিকে শুল্ক ও প্রোটোকলের আলোকেই দেখছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে এরদোয়ান মূলত তুরস্কের শক্তিশালী অস্ত্র শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। জেনেভাভিত্তিক স্মল আর্মস সার্ভে অনুসারে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির পর তুরস্ক ছিল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্রাস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন এবং সাঁজোয়া যানের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র উৎপাদনেও তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাত ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়েছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

কিউএনবি/অনিমা/১০.জুলাই.২০২৬/বিকাল ৩:০১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit