আলমগীর মানিক, রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার জীপতলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে মারিশ্যা ব্যাটালিয়ন (২৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল জীপতলী ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানে অংশ নেন ক্যাপ্টেন অমিত কুমার সাহা (অপারেশনস অফিসার), সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানসহ বিজিবির একটি টহল দল।

এ সময় ৩-৪ জন সন্দেহভাজন চোরাকারবারীরা ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী হলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। তবে চোরাকারবারীরা পাহাড়ের বনাঞ্চলের গভীরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা মালিকবিহীন অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে, ১টি ৭.৬৫ মি.মি. বিদেশি পিস্তল (চায়না, মডেল CZ83), ১ রাউন্ড তাজা গুলি, ৯টি খালি গুলির খোসা, পিস্তল বহনের ব্যাগ ও কভার, ১টি দেশীয় একনলা বন্দুক ও ৭টি খালি খোসা,৫টি চাইনিজ চাপাতি (বড় ২টি, ছোট ৩টি), ২টি দেশীয় ধারালো দা,১টি লোহার হাতুড়ি,১টি বাটুল গুলটি,২৬টি কাঁচের মার্বেল ও ৫টি স্টিলের মার্বেল, ১টি পুরাতন স্কুল ব্যাগ।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা ও বিদেশি সিগারেটের একটি বড় চালান পাচারের উদ্দেশ্যে চোরাকারবারীরা এই এলাকায় অবস্থান করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম অবৈধ চোরাচালান এবং সিগারেট পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়ে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি) এর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিতভাবে চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, চোরাকারবারীরা বিভিন্ন নতুন কৌশল ব্যবহার করে তৎপরতা বাড়ালেও বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করে এসব কার্যক্রম প্রতিহত করে যাচ্ছে।তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কিউএনবি/অনিমা/১০ এপ্রিল ২০২৬,/সকাল ১১:৪৪